২১ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৮১ টন ডুপ্লেক্স বোর্ড খালাসের পর আটক ঢাকার নয়াবাজারে!

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করা প্রায় ৮১ টন ডুপ্লেক্স বোর্ড নির্ধারিত গন্তব্যে না নিয়ে পুরান ঢাকার নয়াবাজারে বিক্রির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় অভিযান চালিয়ে একটি ট্রাক আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)।

শনিবার (২৯ আগস্ট) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে শুল্কমুক্ত সুবিধায় খালাস করা ডুপ্লেক্স বোর্ডগুলো ১০টি ট্রাকে করে খুলনায় নির্ধারিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানে নেওয়ার কথা ছিল। বন্ড সুবিধায় আমদানি করা এসব পণ্য নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন কাজে ব্যবহারের শর্তে শুল্ক-কর ছাড় দেওয়া হয়।

তবে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর ট্রাকগুলোর গতিবিধিতে অসংগতি ধরা পড়ে। নির্ধারিত গন্তব্য খুলনায় না গিয়ে ট্রাকগুলো রুট পরিবর্তন করে পুরান ঢাকার নয়াবাজারে প্রবেশ করে। বিষয়টি গোয়েন্দা নজরদারিতে আসার পর কাস্টমস গোয়েন্দারা সেখানে অভিযান চালান।

অভিযোগ রয়েছে, নয়াবাজারের একটি কাগজের আড়তে বন্ড সুবিধায় আমদানি করা ডুপ্লেক্স বোর্ডগুলো বিক্রির প্রস্তুতি চলছিল। অভিযান পরিচালনার সময় বহরের একটি ট্রাক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও একটি ট্রাক আটক করা হয়। প্রাথমিকভাবে আটক ও সংশ্লিষ্ট বহরে থাকা পণ্যের পরিমাণ প্রায় ৮১ টন বলে জানা গেছে।

বন্ড সুবিধার পণ্য নিয়ে প্রশ্ন
কাস্টমস গোয়েন্দা জানিয়েছে, বন্ড সুবিধায় আমদানি করা পণ্য সাধারণ বাজারে বিক্রি করার জন্য নয়। নির্দিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন কার্যক্রমে ব্যবহারের শর্তেই এসব পণ্য শুল্ক-করমুক্ত বা শুল্ক-কর সুবিধায় আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়।

নির্ধারিত গন্তব্যের বাইরে এসব পণ্য স্থানান্তর কিংবা খোলা বাজারে বিক্রি করা হলে একদিকে যেমন বন্ড সুবিধার শর্ত লঙ্ঘিত হয়, অন্যদিকে সরকার বিপুল পরিমাণ শুল্ক-কর থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য খালাসের পর নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই ট্রাকের রুট পরিবর্তন এবং ঢাকার নয়াবাজারে পণ্য নেওয়ার ঘটনায় তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে কাস্টমস গোয়েন্দা।

শুল্ক-কর ফাঁকির পরিমাণ যাচাই
ঘটনার সঙ্গে জড়িত আমদানিকারক, পরিবহনকারী ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিদের নথিপত্র যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। এ ছাড়া বন্ড সুবিধায় আমদানি করা ডুপ্লেক্স বোর্ডের প্রকৃত আমদানি মূল্য, প্রাপ্য শুল্ক-কর এবং সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণও নিরূপণের কাজ চলছে।

কাস্টমস গোয়েন্দা জানিয়েছে, তদন্তে অনিয়ম ও শুল্ক-কর ফাঁকির প্রমাণ পাওয়া গেলে আমদানিকারকসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পণ্য দেশে প্রবেশ করে। এসব পণ্য নির্ধারিত নিয়ম ও গন্তব্য অনুযায়ী ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা রাজস্ব সুরক্ষার পাশাপাশি বন্ড ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। নয়াবাজারে বন্ড সুবিধার পণ্য বিক্রির এই অভিযোগ সেই নজরদারি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও নতুন করে গুরুত্ব তৈরি করেছে।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ