চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রকৌশল বিভাগের যান্ত্রিক শাখার দুই গাড়িচালকের বিরুদ্ধে ওঠা নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে অভিযুক্ত দুই চালককে সাগরিকা শাখা থেকে প্রত্যাহার করে দামপাড়া পুলে সংযুক্ত (বদলি) করা হয়েছে।
গত ১৩ জুলাই চসিকের সচিবালয় বিভাগের সাধারণ শাখা থেকে জারি করা পৃথক দুটি অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মঙ্গলবার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে সিটি করপোরেশন।
চসিক সূত্র জানায়, অভিযুক্ত দুই চালক হলেন মো. শাহ আলম ও আব্দুল মাবুদ। তাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালনে অনিয়ম, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরে আলোচনা চলছিল। এসব অভিযোগ মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের নজরে এলে তিনি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
মেয়রের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে চসিকের সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে অঞ্চল-৫-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা অভিষেক দাশকে তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাকে আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে সচিবের কাছে বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
তদন্ত চলাকালে অভিযুক্তরা যাতে কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তার করতে না পারেন কিংবা তদন্ত কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই তাদের বর্তমান কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। উপসচিব স্বাক্ষরিত পৃথক আদেশে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওই দুই চালককে স্ব-বেতনে দামপাড়া পুলে সংযুক্ত থাকতে হবে।
অফিস আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যোগদান করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান না করলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রচলিত শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে।
চসিকের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যান্ত্রিক শাখার কিছু কার্যক্রম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ ও অসন্তোষ ছিল। তদন্ত কমিটি গঠন এবং প্রশাসনিক এই পদক্ষেপকে তারা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের প্রত্যাশা, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম রোধে কার্যকর নজরদারি জোরদার করা হবে।
এখন সবার নজর তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের দিকে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রকৃত চিত্র উঠে এলে চসিকের যান্ত্রিক শাখায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।














