২১ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রামের আনোয়ারা

চার দারোয়ানের চোখ ফাঁকি দিয়ে ১২ দোকানে চুরি, সিসিটিভিতে রহস্যময় তরুণী

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার চাতরি চৌমহনী বাজারে চারজন দারোয়ান দায়িত্বে থাকা অবস্থায় এক রাতেই অন্তত ১০ থেকে ১২টি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় দোকানগুলো থেকে নগদ টাকা ও বিভিন্ন মালামাল চুরি হয়েছে। ভাঙা হয়েছে দুটি মসজিদের দানবাক্সও।

ব্যবসায়ীদের দাবি, বাজারের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে এক তরুণীকে গভীর রাতে বাজারের বিভিন্ন অলিগলিতে ঘোরাফেরা এবং কয়েকটি দোকানে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। তাঁর বয়স আনুমানিক ২০ থেকে ২১ বছর বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

গত সোমবার ভোররাতে চাতরি চৌমহনী বাজারের কাঁচাবাজার এলাকায় এ চুরির ঘটনা ঘটে। সকালে ব্যবসায়ীরা দোকান খুলতে এসে বিষয়টি টের পান। পরে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে এক তরুণীর গতিবিধি দেখতে পান তাঁরা।

ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, ফুটেজে ওই তরুণীকে কয়েকটি দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। তবে চুরির সময় বাজারের বাইরে চারজন দারোয়ান নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। এতগুলো দোকানে চুরি হলেও তাঁরা বিষয়টি টের না পাওয়ায় তাঁদের দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ব্যবসায়ীরা।

চুরির ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মধ্যে রয়েছে জাবেদ স্টোর, রাকিবের শুটকির দোকান, মিরাজের মুরগির দোকান, আনোয়ারের লাকড়ির দোকান, মামুন স্টোর, শামসু স্টোর, শফি স্টোর, মোজাহের সওদাগরের পানের দোকান ও নাছির স্টোরসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।

জাবেদ স্টোরের মালিক মো. জাবেদ দাবি করেন, তাঁর দোকান থেকে তেল, দুধসহ ১০ হাজার টাকার বেশি মূল্যের মালামাল চুরি হয়েছে।

তিনি বলেন, ‌‘সকালে দোকান খুলতে এসে দেখি তেল, দুধসহ বিভিন্ন মালামাল নেই। পরে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে এক তরুণীকে দোকানে ঢুকতে দেখি। পাশের আরও কয়েকটি দোকানেও একই কায়দায় চুরি হয়েছে।’

শুটকি ব্যবসায়ী মো. রাকিবের দাবি, তাঁর দোকান থেকে প্রায় পাঁচ হাজার টাকা নগদ চুরি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বাজারে চারজন দারোয়ান থাকার পরও একজন তরুণী কীভাবে ১০-১২টি দোকানে চুরি করলেন, সেটিই আমাদের প্রশ্ন। এ ঘটনা নিয়ে বাজার কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে।’

এ ছাড়া আনোয়ারের লাকড়ির দোকান থেকে প্রায় এক হাজার টাকা এবং শফি স্টোর থেকে একটি ওজন মাপার স্কেল চুরি হয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। নাছির স্টোরসহ কয়েকটি দোকানের ক্যাশবাক্স ভেঙে নগদ টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি তাঁদের। একই রাতে দুটি মসজিদের দানবাক্স ভাঙার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাজারে দায়িত্ব পালনকারী এক দারোয়ান বলেন, ‘রাতে একজন মেয়েকে বাজারে ঘোরাঘুরি করতে দেখেছিলাম। তবে তাঁকে সন্দেহজনক মনে হয়নি। তাই কিছু জিজ্ঞাসা করিনি।’

এই বক্তব্যের পর বাজারের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের কয়েকজনের ধারণা, এতগুলো দোকানে চুরির ঘটনায় ওই তরুণীর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকতে পারেন। কোনো সংঘবদ্ধ চক্র এ ঘটনায় জড়িত কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েদ চৌধুরী বলেন, ‘চাতরি চৌমহনী বাজারে চুরির ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তারপরও ঘটনাটি আমরা জেনেছি। পুলিশ তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনবে।’

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ