২২ অক্টোবর ২০২৬

চালু হচ্ছে ডিভি লটারি, বাংলাদেশিরা কি অংশ নিতে পারবে?

যুক্তরাষ্ট্রের ডাইভারসিটি গ্রিন কার্ড (ডিভি) ভিসা লটারি আবার চালু হতে যাচ্ছে। সম্প্রতি আদালতের আদেশের ফলে ২০২৭ সালের ডিভি লটারি ফের চালু করতে বাধ্য হচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে বাংলাদেশিরা এবারও অংশ নিতে পারবে কি না, তা আগামী ২৯ অক্টোবর প্রকাশিতব্য অফিশিয়াল বিজ্ঞপ্তির পরই পরিষ্কার হবে।

মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট বিচারক জিনসুক ওহতা পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে এই লটারিপ্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনের বিস্তারিত প্রকাশ করতে হবে। ১ নভেম্বর থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়ে ৩০ দিন ধরে তা চালু থাকবে এবং ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে বিজয়ীদের ফল প্রকাশ করতে হবে।

তবে ভিসার চূড়ান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য মেয়াদ থাকবে ২০২৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

এদিকে চলতি বছরের লটারির জন্য যোগ্য দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্ত থাকবে কি না, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য জানায়নি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আগামী ২৯ অক্টোবর ডিভি লটারির অফিশিয়াল বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণের বিষয়টি পরিষ্কার হবে। ২০০৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে ডিভি লটারিতে ৫০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি যুক্তরাষ্ট্রে গেছে। ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশ এই লটারির বাইরে রয়েছে।

১৯৯০ সালের ইমিগ্রেশন অ্যাক্টের অধীন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের আমলে এই ডাইভারসিটি ভিসা প্রোগ্রাম চালু হয়। এই লটারির মাধ্যমে মূলত যেসব দেশ থেকে ঐতিহাসিকভাবে কম অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে আসে, তাদের জন্য সুযোগ তৈরি করা হয়। তবে লটারি জিতলেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিশ্চিত হয় না; আবেদনকারীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে। মার্কিন প্রশাসন এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলেও আইনি লড়াই বর্তমানে অব্যাহত রয়েছে।

২০২৫ সালের নভেম্বরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হঠাৎ লটারি আবেদন স্থগিত করে এবং পরিস্থিতি অনুকূলে এলে নতুন তারিখ ঘোষণার প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু দীর্ঘ বিলম্বের কারণে ২০২৭ সালের লটারি কার্যক্রম কার্যত বাতিল হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে। এর বিরুদ্ধে ‘রেড ইগল ল’ নামক একটি আইনি সংস্থা আদালতের দ্বারস্থ হয় এবং আদালত ৩০ দিনের একটি নিবন্ধন সময়সীমা বেঁধে দেন।

এদিকে ডিভি লটারি চালু করতে আদালত যে রায় দিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। আদালতের আদেশ স্থগিত রাখার আবেদনও জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন, যা মঞ্জুর হলে লটারির নিবন্ধন শুরুর প্রক্রিয়া ফের ঝুলে যেতে পারে।

আরও পড়ুন