চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে রান্নাঘরের চুলার ধোঁয়া নিয়ে প্রতিবেশীর সঙ্গে বিরোধের জেরে কিরিচের কোপে গুরুতর আহত এক বৃদ্ধ ১৪ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা গেছেন। এ ঘটনায় নারীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৫ জুন) ভোরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মো. ইব্রাহিম (৬০) মারা যান। তিনি কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ শিকলবাহা তালতলা এলাকার মৃত ইয়াকুবের ছেলে।
এর আগে গত ২৩ এপ্রিল তালতলা এলাকায় মাওলানা আহছান উল্লাহর বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। নিহতের ছেলে মো. তহিদুল ইসলাম আজাদ (১৯) বাদী হয়ে ২৫ এপ্রিল সাতজনের নাম উল্লেখ করে আরও ৫-৬ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে কর্ণফুলী থানায় এ মামলা দায়ের করেন।
মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— আলী আজগর (৫০), তার স্ত্রী নুরুন্নাহার বেগম (৪৩), ছেলে আশরাফ আলী (২৫), তারেকুল ইসলাম তুষার (২৭) ও নিশাত (২৮)। এর মধ্যে নিশাত অজ্ঞাত আসামি হওয়ায় জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। অন্যরা কারাগারে রয়েছেন।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত ইব্রাহিম ও অভিযুক্ত আলী আজগর প্রতিবেশী ছিলেন। পাশাপাশি বসতঘর হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা ও বসতভিটা নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিল।
ঘটনার দিন ইব্রাহিমের রান্নাঘরের চুলার ধোঁয়া প্রতিবেশীর ঘরে যাওয়াকে কেন্দ্র করে উভয় পরিবারের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এতে কিরিচের আঘাতে ইব্রাহিম গুরুতর আহত হন। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৪ দিন পর তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রীও দেশীয় অস্ত্র ও ইটের আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। নিহতের ছেলে তহিদুল ইসলাম আজাদ বলেন, ‘তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমার বাবাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমার মা-ও গুরুতর আহত। বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু বিচার চাই।’
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম মেম্বার বলেন, ‘আলী আজগরের পরিবারের বিরুদ্ধে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে উশৃঙ্খল আচরণের অভিযোগ রয়েছে। তারা কারও কথা শুনতে চায় না। বিভিন্ন সময় বিরোধ মীমাংসায় সালিশ করতে গেলে আমাকেও মারধরের চেষ্টা করা হয়েছিল।’
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কর্ণফুলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আশিক হায়দার বাকী বলেন, ‘ভুক্তভোগীর মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’














