২৩ অক্টোবর ২০২৬

চেতনানাশক খাইয়ে অটোরিকশাচালক হত্যা, চক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার

চেতনানাশক

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চেতনানাশক দ্রব্য পান করিয়ে অটোরিকশা ছিনতাই এবং চালক আইয়ুব আলীকে (৫৫) হত্যার ঘটনায় দু’জনেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (১১ মে) ভোরে চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া ও পটিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলো— পটিয়া উপজেলার জিরি ইউনিয়নের কেয়গ্রাম এলাকার মৃত আবদুল হকের ছেলে মো. জামাল ওরফে গালকাটা জামাল (৫২) এবং রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের মৃত আবদুল মালেকের ছেলে মো. আব্দুল জব্বার (৩১)।

পুলিশ জানায়, নিহত আইয়ুব আলী উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কৈখাইন এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ভাড়াভিত্তিক একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালাতেন। গত ২০ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৬টার দিকে প্রতিদিনের মতো বাড়ি থেকে অটোরিকশা নিয়ে বের হন। পরে সকাল ১১টার দিকে শোলকাটা রাস্তার মোড় এলাকায় পথচারীরা তাকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক সপ্তাহ পর গত ২৭ এপ্রিল সকালে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় অটোরিকশার মালিক আলী আহাম্মদ বাদী হয়ে গত ৬ মে আনোয়ারা থানায় হত্যা, চেতনানাশক দ্রব্য প্রয়োগ ও চুরির অভিযোগে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

পরে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত জামাল ওরফে গালকাটা জামাল আন্তঃজেলা অজ্ঞান পার্টি চক্রের সক্রিয় সদস্য। তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চেতনানাশক প্রয়োগ করে অটোরিকশা ছিনতাই ও হত্যার একাধিক মামলা রয়েছে।

নিহত আইয়ুব আলীর ছোট ছেলে মো. শাহেদ বলেন, ‘আমার বাবাকে এভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা প্রথমে বুঝতে পারিনি। চিকিৎসকরা বলেছিলেন তাকে কিছু খাইয়ে অচেতন করা হয়েছে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাবার মৃত্যু হয়। আমরা জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।’

আনোয়ারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী বলেন, ‘ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ ধারাবাহিকভাবে কাজ করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।’

আরও পড়ুন