১ অক্টোবর ২০২৬

‌‘লুটপাটের হিসাবও বের হবে’— চট্টগ্রামে কড়া বার্তা অর্থমন্ত্রীর

জলাবদ্ধতা প্রকল্পে গতি আনতে চট্টগ্রামে চার মন্ত্রী

চট্টগ্রাম নগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি তদারকি ও কাজের গতি বাড়াতে নগর পরিদর্শনে এসেছেন চার মন্ত্রী। শনিবার (১৬ মে) বিকেলে বিভিন্ন খাল ও প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখে দ্রুত কাজ সম্পন্নের তাগিদ দেন তাঁরা।

পরিদর্শন দলে নেতৃত্ব দেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এসময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন পার্বত্য মন্ত্রণালয় ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামবাসীর জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ নিরসনে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং প্রকল্পের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এখন প্রকল্পটির সমাধান করতে চাই। চট্টগ্রামবাসী যে জলাবদ্ধতার কষ্ট পাচ্ছে, সেটিকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। তবে অতীতে যেসব অনিয়ম ও লুটপাট হয়েছে, তার হিসাবও বের করা হবে। কারা এর সঙ্গে জড়িত ছিল, সেটিও তদন্ত করে দেখা হবে।’

মন্ত্রী জানান, নগরের প্রায় ১৩০টি খালকে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতায় আনা হচ্ছে। খালের পানিপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত, জোয়ার-ভাটার প্রভাব, স্লুইস গেট ব্যবস্থাপনা এবং বঙ্গোপসাগরে পানি নিষ্কাশনের সক্ষমতা বিবেচনায় রেখেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘প্রকল্পের অধিকাংশ কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে কিছু কাজ সাময়িক বন্ধ থাকলেও বর্ষার পর দ্রুত বাকি কাজ সম্পন্ন করা হবে।’ চলতি বছরের শেষ নাগাদ চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা সমস্যার বড় ধরনের সমাধান দৃশ্যমান হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

জনসচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘অনেকেই খালকে ময়লা-আবর্জনা ফেলার জায়গা হিসেবে ব্যবহার করছেন। এ প্রবণতা বন্ধ না হলে জলাবদ্ধতা নিরসনের সুফল পুরোপুরি পাওয়া কঠিন হবে।’

তিনি জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নে সমন্বয় জোরদার করতে মেয়রের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নিয়ে একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরকারের আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন নগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নুরুল করিম এবং ৩৪ কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট মো. মহসিনুল হক চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ