২৩ অক্টোবর ২০২৬

ইউসিবিএলের ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ

জাবেদসহ ৩৬ জনের মামলায় আরও ৪ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবিএল) থেকে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং হুণ্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচারের অভিযোগে দায়ের করা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে আরও চারজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এ নিয়ে মামলায় মোট ৩১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমানের আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোকাররম হোসাইন জানান, দুদকের পক্ষ থেকে চারজন সাক্ষীকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়। আদালত তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন করেন। মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২৬ জুলাই দিন ধার্য করা হয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমান চট্টগ্রাম মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, আরামিট গ্রুপের প্রটোকল অফিসার ফরমান উল্লাহ চৌধুরীকে ভিশন ট্রেডিং নামে একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের মালিক দেখিয়ে ইউসিবিএল থেকে ২৫ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন করা হয়। পরে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ তার প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের মাধ্যমে ওই অর্থ উত্তোলন করে হুণ্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করেন এবং সেই অর্থে বিদেশে সম্পদ কেনেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

দুদকের তদন্তে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আত্মসাৎ ও অর্থপাচারের ঘটনাগুলো সংঘটিত হয়।

মামলার প্রধান আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, তার স্ত্রী ও ইউসিবিএলের সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামান, ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান, পরিচালক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং জাবেদের পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আরামিট গ্রুপের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী।

২০২৫ সালের ২৪ জুলাই দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমান চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-১-এ জাবেদ, তার স্ত্রীসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। পরবর্তীতে তদন্তে আরও সাতজনের সম্পৃক্ততা পাওয়ায় মোট ৩৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

অভিযোগপত্রে ৯২ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। তবে মামলার দুই আসামি মৃত্যুবরণ করায় তাদের বিচারিক কার্যক্রম থেকে বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। বর্তমানে বাকি আসামিদের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

আরও পড়ুন