৫ অক্টোবর ২০২৬

বিমানবন্দরের ইডিকে হুমকি

জামিন নাকচ, আখতারুজ্জামান কারাগারে

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ‘বিশৃঙ্খলা, সরকারি কাজে বাধা, নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত ও বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে হুমকি’ দেওয়ার মামলায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জনকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

এক দিনের রিমান্ড শেষে রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয় বলে প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আবু বক্কর ছিদ্দিক জানান।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরদিন শনিবার তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।

রিমান্ড শেষে রোববার তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার এসআই মাজেদুল ইসলাম।

আবেদনে বলা হয়, এক দিনের রিমান্ডে নিয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার ঘটনা সম্পর্কে আসামিকে ‘ব্যাপক ও নিবিড়ভাবে’ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি মামলার ঘটনার ‘সত্যতা স্বীকার’ করেছেন এবং কিছু ‘তথ্য’ দিয়েছেন। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

মামলার তদন্ত অব্যাহত আছে জানিয়ে আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

আখতারুজ্জামানের পক্ষে আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাকসহ কয়েকজন জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী জামিনের বিরোধিতা করেন।

শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়। শুনানির সময় আখতারুজ্জামানকে এজলাসে তোলা হয়।

যে ঘটনায় মামলা
গত বৃহস্পতিবার মদিনা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটের ওমরাহ যাত্রীদের জমজমের পানি সরবরাহে বিলম্ব এবং লাগেজ পেতে দেরি হওয়াকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দরে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওতে সাবেক সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামানকে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদকে উদ্দেশ করে বলতে শোনা যায়, ‘ঘাড় ধরে বের করে দেব, ঘাড় ধরে বের করে দেব। আপনারা কাজ করেন না, কিছু করেন না, তদবির করে পোস্ট নেন। মাইর খাইতে চান?’

মামলার এজাহারে বলা হয়, ১ অক্টোবর সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৩৮ ফ্লাইটে জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ জন প্রতিনিধি সপরিবারে মদিনা থেকে ঢাকায় আসেন। বিমানবন্দরে ওই সময় আগমনী যাত্রীর চাপ বেশি থাকায় ট্রলি সংগ্রহের জন্য দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়।

অভিযোগে বলা হয়, কয়েকজন প্রটোকল সহকারী লাইনের নিয়ম ভেঙে ট্রলি সংগ্রহের চেষ্টা করেন। পরে লাগেজ আসতে বিলম্ব এবং জমজমের পানি না পাওয়াকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং ‘অশোভন’ আচরণ করেন।

এর মধ্যে বেলা পৌনে ১১টার দিকে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদকে ঘটনাস্থলে ডেকে পাঠান।

রাগীব সামাদ সেখানে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলার সময় আখতারুজ্জামান তার দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে এগিয়ে যান এবং গালিগালাজ করেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে মামলায়।

এজাহারে বলা হয়, নির্বাহী পরিচালক অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ ও ট্রলি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বোঝানোর চেষ্টা করলেও আখতারুজ্জামান আরও উত্তেজিত হয়ে বলেন, “আমি কিন্তু পিটাবো ধইরা”, “গেইট আউট ফ্রম হিয়ার”, “ঘাড় ধরে বের করে দিব”, “কাজ জানেন না, তদবির করে পোস্টিং এ আসবেন”, “মাইর খাইতে চান?”

আখতারুজ্জামানের আচরণে পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য কামাল হোসেন নির্বাহী পরিচালককে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেন বলে এজাহারে লেখা হয়েছে।

এরপর আখতারুজ্জামান উপস্থিত ব্যক্তিদের উদ্দেশে হুমকি দেন বলেও মামলার বিবরণে অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আপনাদের সবাইকে বিমানবন্দরে বেঁধে পিটানো এবং সোশাল মিডিয়ায় দেওয়া দরকার, যাতে তারেক রহমান এটি দেখেন, তখন আপনারা সোজা হবেন। আপনাদের ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেব।”

আরও পড়ুন