চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসের তুলনায় জুন মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় চার গুণ বেড়েছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য বিভাগের জরিপে নগরীর আটটি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ২ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩১৭ জন। এর মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। জানুয়ারিতে ৬৮ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২২, মার্চে ২০, এপ্রিলে ২৯ এবং মে মাসে ৩৭ জন আক্রান্ত হলেও জুন মাসেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১২২ জন। জুলাইয়ের প্রথম দুই দিনেই আরও ১৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
সম্প্রতি বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের পরিচালিত জরিপে নগরীর ১৮টি ওয়ার্ডের ৩৭০টি বাড়ি পরিদর্শন করে ৯৯টি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। অর্থাৎ প্রায় ২৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ বাড়িতে ডেঙ্গুবাহী মশার উপস্থিতি মিলেছে। জরিপে উত্তর কাট্টলী, পাহাড়তলী, আলকরণ, পশ্চিম বাকলিয়া, দক্ষিণ বাকলিয়া, দক্ষিণ বালুচরা, পাথরঘাটা ও আন্দরকিল্লাকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষার শুরুতেই আক্রান্তের এই ঊর্ধ্বগতি ডেঙ্গুর অশনিসংকেত। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বর্ষার মাঝামাঝি সময়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। পাশাপাশি হাসপাতালগুলোকে ডেঙ্গু রোগী মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মাঠে কী করছে চসিক?
ডেঙ্গু প্রতিরোধে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, গত ছয় মাস ধরে প্রচলিত রাসায়নিকের ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব বিটিআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। মশক নিধন কার্যক্রমের মান তদারকির জন্য সাতজন পরিদর্শক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
চসিকের দাবি, নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে প্রতিদিন সকালে লার্ভিসাইড এবং বিকালে এডাল্টিসাইড স্প্রে করা হচ্ছে। ২০৫ জন স্প্রে ম্যান নিয়মিত মাঠে কাজ করছেন। ডেঙ্গুর হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত এলাকাগুলোর জন্য আলাদা বিশেষ স্প্রে টিমও কাজ করছে। আগামী ছয় মাসের প্রয়োজনীয় ওষুধও মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এ ছাড়া চসিকের মেমন হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। নগরবাসীর জন্য বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা কর্নার চালুর পাশাপাশি সচেতনতা বাড়াতে মাইকিং, লিফলেট বিতরণ এবং নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
চসিকের ম্যালেরিয়া ও মশক নিধন কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহি বলেন, ‘মশা নিধনে আমাদের কার্যক্রম চলমান আছে। আমাদের জনবল এবং ওষুধের কোনও স্বল্পতা নেই। আগামী ছয় মাসের ওষুধ গুদামে মজুত আছে। নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে ২০৫ জন স্প্রে ম্যান নিয়মিত কাজ করছেন। বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর জন্য কাজ করছে বিশেষ স্প্রে টিম।’














