২৩ অক্টোবর ২০২৬

টুংটাং শব্দে মুখর কামারপাড়া

ভোরের আলো ফোটার আগেই আগুন জ্বলে ওঠে কামারশালায়। হাপরের দমে লাল হয়ে ওঠা লোহা হাতুড়ির আঘাতে ছড়িয়ে দেয় আগুনের ফুলকি। টুংটাং শব্দে মুখর হয়ে ওঠে চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার তেলিপট্টি, ফিরিঙ্গিবাজার, মোগলটুলি ও আশপাশের কামারপাড়া।

কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে আসতেই দা, বটি, ছুরি ও চাপাতি তৈরিতে এখন দম ফেলার ফুরসত নেই কামারদের। কেউ নতুন সরঞ্জাম বানাচ্ছেন, কেউ আবার পুরোনো দা-বটি শান দিয়ে নতুনের মতো ধারালো করে তুলছেন। আর এসব কিনতে সকাল থেকেই ভিড় করছেন ক্রেতারা।

হাপরের আগুনে লোহা গরম করে কামাররা তৈরি করছেন দা, বটি, ছুরি ও চাপাতি। কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার কাজে ব্যবহৃত এসব সরঞ্জামের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।

কামাররা জানান, সাধারণত স্প্রিং লোহা (পাকা লোহা) ও কাঁচা লোহা দিয়ে এসব সরঞ্জাম তৈরি করা হয়। এর মধ্যে স্প্রিং লোহার তৈরি ছুরি, চাপাতি ও বটির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। কারণ এগুলো বেশি টেকসই ও ধারালো হয়।

তবে কাঁচামালের দাম বাড়ায় এবার বেড়েছে উৎপাদন খরচও। বর্তমানে প্রতি কেজি লোহা কিনতে হচ্ছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকায়। এছাড়া কয়লার একটি বস্তা কিনতে গুনতে হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার টাকা। ফলে সরঞ্জামের দামও আগের তুলনায় বেশি বলে জানান কামাররা।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ভালো মানের একটি চাপাতি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায়। জবাইয়ের ছুরির দাম ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, চামড়া ছাড়ানোর ছুরি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা এবং বটির দাম ৬০০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে।

অনেক ক্রেতা সরাসরি লোহা কিনে নিজেদের পছন্দমতো সরঞ্জাম তৈরি করাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ রেডিমেড দা-বটি ও ছুরি কিনে বাড়ি ফিরছেন। পাশাপাশি পুরোনো সরঞ্জাম শান দিতে আসা মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে।

ক্রেতা আশিক উল্লাহ বলেন, ‌‘ঈদের দুই-তিন দিন আগে কামারপাড়ায় অনেক বেশি ভিড় হয়। তখন তাড়াহুড়োর কারণে ভালো কাজ পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। তাই আগেভাগেই এসে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তৈরি করিয়ে নিচ্ছি।’

অন্যদিকে, কোরবানির মাংস কাটার কাজে ব্যবহৃত কাঠের খাইট্টা বা তেঁতুল গাছের মোটা টুকরো বিক্রি করছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। ভ্যানগাড়িতে করে বিভিন্ন এলাকায় এসব খাইট্টা বিক্রি করতে দেখা গেছে। বিক্রেতাদের আশা, ঈদের আগের দু-এক দিনে বিক্রি আরও বাড়বে।

নগরীর বাকলিয়া এলাকার কামার বিমল কর্মকার বলেন, ‘সারাবছর কাজ তেমন থাকে না। কোরবানির ঈদ এলেই ব্যস্ততা বাড়ে। এই সময়ের আয় দিয়েই অনেকটা সংসার চলে। কিন্তু ঈদের পর আবার কাজ কমে যায়, তখন অন্য কাজ করতে হয়।’

কামারদের মতে, কোরবানির ঈদ শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং এটি তাদের বছরের সবচেয়ে বড় কর্মমৌসুম। তবে বাড়তি আয় হলেও কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি ও অনিশ্চয়তার কারণে আগের মতো লাভ থাকছে না বলেও জানান তারা।

আরও পড়ুন