৭ অক্টোবর ২০২৬

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এডিসের প্রজননস্থল ধ্বংসের তাগিদ মেয়রের

চট্টগ্রাম নগরে ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ন্ত্রণে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং নাগরিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেছেন, শুধু সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। নগরবাসীকেও নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল ১০টায় নগরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাহাত্তারপুল মোড়ে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে চসিকের উদ্যোগে আয়োজিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে এসব কথা বলেন মেয়র।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এখন অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর’—এই নীতিতে সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বরের কর্মসূচি সফল করতে হবে।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। বাসাবাড়ি, ছাদ, বারান্দা, নির্মাণাধীন ভবন কিংবা আশপাশে কোথাও পানি জমে থাকলে তা নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। কারণ জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করে।

নগরবাসীর উদ্দেশে মেয়র বলেন, নিজের ঘর, আঙিনা ও প্রতিষ্ঠানের আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

এডিস মশার আচরণ সম্পর্কে সচেতন করে তিনি বলেন, এ মশা সাধারণত দিনের বেলায় বেশি সক্রিয় থাকে। তাই শুধু রাতে নয়, দিনের বেলাতেও মশার কামড় থেকে সতর্ক থাকতে হবে। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর ঘরের অন্ধকার ও আড়ালযুক্ত স্থান এবং আশপাশে জমে থাকা পানি পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

ডেঙ্গু নিয়ে সঠিক ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রচারের ওপরও গুরুত্ব দেন মেয়র। তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে কথা বলার আগে সঠিক তথ্য ও পরিসংখ্যান জানা প্রয়োজন। ঢালাওভাবে তথ্য প্রচার করলে মানুষের মধ্যে অযথা আতঙ্ক তৈরি হতে পারে।

মেয়র আরও বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন হাসপাতালে জেলার নানা এলাকা থেকে রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসেন। ফলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া সব ডেঙ্গু রোগীকে সিটি করপোরেশন এলাকার রোগী হিসেবে দেখানো ঠিক নয়। কোন এলাকায় কতজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন, সেই তথ্যের ভিত্তিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন।

জ্বর হলে দ্রুত পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়ে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে এনএস-১ অ্যান্টিজেন পরীক্ষার ব্যবস্থাও রয়েছে।

পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন