১ অক্টোবর ২০২৬

‘চাকসুর নামে চাঁদাবাজি’— স্বাস্থ্য সম্পাদকের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) স্বাস্থ্য সম্পাদক আফনান হাসান ইমরানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন ইমরান।

বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট থেকে মিছিলটি বের করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। পরে মিছিলটি সোহরাওয়ার্দী মোড় হয়ে এ এফ রহমান হলের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

এ সময় ‘কাজ নাই কাম নাই, করে শুধু ধান্দা; চাকসুর নাম দিয়ে তোলে শুধু চান্দা’, ‘বীর বীর করিস না, পিঠের চামড়া থাকবে না’, ‘লীগ গেছে হিন্দুস্তান, শিবির যাবে পাকিস্তান’, ‘লীগ গেছে যেই পথে, শিবির গেছে সেই পথে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা।

মিছিল শেষে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘চাকসু নির্বাচনের পর চাকসু আর চাকসু নেই, এটি শিবিরের শো-তে পরিণত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কোনো কাজ হচ্ছে না। এরা শিবিরের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করে। আমরা আজ জানতে পেরেছি, চাকসুর স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক মীরসরাইসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে ছাত্র সংসদের নামে চাঁদাবাজি করছেন।’

নোমান বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কেউ যদি বীরের বেশে বীরের নাম ব্যবহার করে মব তৈরি করেন কিংবা গুপ্ত হামলা চালান, তাদের জন্য সুস্পষ্ট বার্তা-এ ধরনের কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া হবে না। ছাত্রসমাজের রক্তের বিনিময়ে নতুন বাংলাদেশে কেউ যদি শিক্ষার্থীদের কল্যাণের বিপরীতে দাঁড়ান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংস্কৃতির বিরুদ্ধে অবস্থান, নেন কিংবা দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেন, কারো পিঠের চামড়া রাখা হবে না।’

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াসিন বলেন, ‘চাকসু থেকে এদের বিতাড়িত করতে হবে। বাইতুল মাল নামে চাঁদাবাজি করে বেড়ায়। ক্যাম্পাসে চাঁদাবাজি করতে না পারায় বিভিন্ন জায়গায় তা করছে। যারা এ চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত, জনগণের মাধ্যমে প্রকাশ করুন। আর আইনের আওতায় না আনতে পারলে আমরাই তার বিচার করব।’

এর আগে বুধবার ‘বিএনপির সঙ্গে চাঁদাবাজির অভিযোগ, জামায়াতের দুই নেতাকে বহিষ্কার’ শিরোনামে সংবাদ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে চাকসুর স্বাস্থ্য সম্পাদককে জামায়াত থেকে বহিষ্কারের কথা বলা হয়।

তবে মীরসরাই উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির নুরুল কবিরের দাবি, চাঁদাবাজির অভিযোগে আফনান হাসান ইমরানকে জামায়াত থেকে বহিষ্কারের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
শিবিরের কাউকে জামায়াত কীভাবে বহিষ্কার করতে পারে? যেটা ছড়িয়েছে, এটা সত্য নয়।

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চাকসুর স্বাস্থ্য সম্পাদক আফনান হাসান ইমরান। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় জামায়াতের আমিরের সঙ্গে আমি কথা বলেছি। উনি আমাকে জানিয়েছেন, তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো সাংবাদিক যোগাযোগ করেনি। পৌর জামায়াতের একজনের সঙ্গে আমি কিছুক্ষণ আগে বসে ছিলাম।’

হাসান ইমরান বলেন, ‘এটার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে কোনো প্রেস রিলিজ দেবে কি না বা কী প্রতিক্রিয়া জানাবে, সেটা উনারা জানাবেন। আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার শিবিরের সঙ্গে জড়িত এবং এখানেরই সদস্য। জামায়াতের সঙ্গে আমি কোনোভাবে জড়িত না।’

আরও পড়ুন