২১ অক্টোবর ২০২৬

তিন প্রাণহানির পর চুয়েটে নিরাপত্তা নিয়ে ১১ দফা দাবি শিক্ষার্থীদের

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়— চুয়েটে পুকুরে ডুবে তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর ক্যাম্পাসের চিকিৎসা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে মেডিকেল সেন্টারের সক্ষমতা বাড়ানো, পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স সংযোজন, ফায়ার ব্রিগেড স্থাপন এবং পুকুরগুলোর নিরাপত্তা জোরদারসহ ১১ দফা দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪ আবর্তের শিক্ষার্থীরা।

উপাচার্যের কাছে দেওয়া লিখিত আবেদনে শিক্ষার্থীরা শুধু সাময়িক ব্যবস্থা নয়, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা কাঠামোয় দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন।

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে চুয়েট মেডিকেল সেন্টারে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজন, দক্ষ চিকিৎসক নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উন্নত চিকিৎসা দিতে একটি পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স এবং প্রয়োজনে আরও অ্যাম্বুলেন্স সংযোজনের দাবিও রয়েছে।

এ ছাড়া সাপের কামড়ের চিকিৎসার জন্য মেডিকেল সেন্টারে সবসময় অ্যান্টিভেনম মজুত রাখা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ক্যাম্পাসে একটি ফায়ার ব্রিগেডের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

পুকুরগুলোর নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে দাবিতে। সব পুকুরে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড, লাইফ বয়া, উদ্ধার সরঞ্জাম ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং পুকুরের পাশে সার্বক্ষণিক একজন আনসার সদস্য মোতায়েনের দাবি জানানো হয়েছে।

কাজী নজরুল ইসলাম হল ও শিক্ষকদের ডরমিটরির পুকুরের গভীরতা পাঁচ ফুটের মধ্যে এনে সুইমিং পুলের আদলে করার চলমান কাজ দ্রুত শেষ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য পুকুরের নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণেও কার্যকর ব্যবস্থা চেয়েছেন তারা।

পুকুরগুলোর নকশা ও নির্মাণকাজ যথাযথভাবে হয়েছে কি না, তা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের— এলজিইডির মাধ্যমে তদন্তের দাবিও রয়েছে। তদন্তে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

১১ দফা দাবির মধ্যে আরও রয়েছে ক্যাম্পাসের ভাঙাচোরা ও ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক দ্রুত সংস্কার এবং দীর্ঘদিন ধরে চলা নির্মাণ ও সংস্কারকাজ দ্রুত শেষ করা।

সম্প্রতি চুয়েটের পুকুরে ডুবে অর্ণব সাহা, চমক দত্ত ও শান্ত দেব নামে তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। পরপর এসব প্রাণহানির ঘটনায় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, এই তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যু শুধু তিনটি পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি নয়, পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের জন্যও একটি সতর্কবার্তা। তাই দুর্ঘটনার পর সাময়িক পদক্ষেপের পরিবর্তে চিকিৎসা, উদ্ধার ও অবকাঠামোগত নিরাপত্তায় স্থায়ী পরিবর্তন চান তারা।

২৪ আবর্তের শিক্ষার্থীরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছেন।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ