২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রত্যর্পণ এড়াতে নতুন চাল

দুবাইয়ে বেনজীরের বিরুদ্ধে আর্থিক মামলা

যেকোনো উপায়ে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ ঠেকাতে মরিয়া বলে অভিযোগ উঠেছে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি দুবাইয়ে ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তিকে দিয়ে নিজের নামে মামলা করিয়েছেন বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র। মামলায় তার বিরুদ্ধে আর্থিক অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

দুবাইয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মূলত বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া বিলম্বিত কিংবা বাধাগ্রস্ত করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে বেনজীর আহমেদের আইনি বিষয় দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক ব্যক্তি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, নিজের লোক দিয়ে মামলা করানোর তথ্য সঠিক নয়।

এদিকে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে দুবাইয়ে অবস্থানরত ঢাকার প্রতিনিধিরা ইন্টারপোলসহ বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ ও তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশি প্রতিনিধিদের এই তৎপরতার বিষয়টি জানতে পেরেই নতুন আইনি কৌশল গ্রহণ করেন বেনজীর। দুবাইয়ের এক ব্যবসায়ী জানান, বেনজীর আহমেদের আইনি লড়াই এখনো শেষ হয়নি; বরং তাকে ঘিরে নতুন করে আইনি ও কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে দুবাইয়ে একটি দেওয়ানি ও ব্যক্তিগত আর্থিক বিষয়সংক্রান্ত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ওই ব্যবসায়ীর ভাষ্য, মামলাটির অন্যতম উদ্দেশ্য হলো বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগকে জটিল করে তোলা। কারণ সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইনে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আর্থিক বা সম্পত্তিসংক্রান্ত মামলা চলমান থাকলে তার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া স্থগিত বা বিলম্বিত হতে পারে।

ফলে মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা এবং আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলেছে এশিয়া পোস্ট। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা অনেক সময় স্থানীয় আদালতে বিভিন্ন ধরনের মামলা বা আবেদন করে বিচারিক সুরক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করেন। এর মাধ্যমে তারা গ্রেপ্তারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেন অথবা প্রত্যর্পণ কার্যক্রম সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় আদালতের তত্ত্বাবধানে থাকার সুযোগ চান।

তবে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং এর আইনি প্রভাব নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি দুবাই কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন