কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে জাহাজ থেকে ভাসমান টার্মিনালে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) স্থানান্তর ব্যাহত হচ্ছে বলে তথ্য দিয়েছে পেট্রোবাংলা।
এর মধ্যেই তিন দিনের ব্যবধানে এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহ প্রায় ৩২ শতাংশ কমে ৬৮৬ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমেছে। মোট গ্যাস সরবরাহও নেমেছে ২ হাজার ৩০১ মিলিয়ন ঘনফুটে।
পেট্রোবাংলার বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার তথ্য অনুযায়ী, এ দিন দেশীয় ক্ষেত্র থেকে গ্যাসের সরবরাহ ছিল ১ হাজার ৬১৫ মিলিয়ন ঘনফুট। আমদানি করা এলএনজি থেকে পাওয়া রিগ্যাসিফায়েড এলএনজি বা আরএলএনজির সরবরাহ ছিল ৬৮৬ মিলিয়ন ঘনফুট।
পেট্রোবাংলা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, মহেশখালী এলাকায় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে আমদানি করা এলএনজি কার্গো থেকে ভাসমান টার্মিনালে স্থানান্তর ব্যাহত হচ্ছে। এ কারণে স্বাভাবিকের তুলনায় সামগ্রিক গ্যাস সরবরাহ কমেছে। আবহাওয়ার উন্নতির সঙ্গে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।
এর আগে ২১ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টায় দেশে আরএলএনজি সরবরাহ ছিল ১ হাজার ৩ মিলিয়ন ঘনফুট। তখন মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২ হাজার ৫৯১ মিলিয়ন ঘনফুট। সে হিসাবে তিন দিনের ব্যবধানে আরএলএনজি সরবরাহ কমেছে ৩১৭ মিলিয়ন ঘনফুট বা প্রায় ৩১ দশমিক ৬ শতাংশ। মোট গ্যাস সরবরাহ কমেছে ২৯০ মিলিয়ন ঘনফুট।
এর আগের কয়েক দিনেও আরএলএনজি সরবরাহ এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুটের আশপাশে ছিল। ১৮ সেপ্টেম্বর বিকাল ৪টায় আরএলএনজি সরবরাহ ছিল ১ হাজার ২৪ মিলিয়ন ঘনফুট। ১৯ সেপ্টেম্বর একই সময়ে ছিল ৯৯৬ মিলিয়ন ঘনফুট। ২০ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টায় সরবরাহ ছিল ১ হাজার ২ মিলিয়ন ঘনফুট। একই দিন বিকাল ৪টায় তা ছিল ১ হাজার ১ মিলিয়ন ঘনফুট। এর পরদিন দুপুর ২টায়ও সরবরাহ ছিল ১ হাজার ৩ মিলিয়ন ঘনফুট।
অর্থাৎ ১৮ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাওয়া পেট্রোবাংলার তথ্যে আরএলএনজি সরবরাহ ৯৯৬ থেকে ১ হাজার ২৪ মিলিয়ন ঘনফুটের মধ্যে ছিল।
মহেশখালীর দুই ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের সম্মিলিত গ্যাস সরবরাহ সক্ষমতা দৈনিক ১১০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার ৬৮৬ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ সেই সক্ষমতার প্রায় ৬২ শতাংশ।
দেশে গ্যাসের চাহিদা দৈনিক প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও চাহিদার পুরোটা মেটানো সম্ভব হয় না।
মহেশখালীর এলএনজি সরবরাহ ব্যবস্থা গত দুই মাসে কয়েক দফা বাধার মুখে পড়েছে। ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান টার্মিনালে আগুন ও কারিগরি সমস্যা দেখা দিলে সেখান থেকে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। দুই সপ্তাহের বেশি সময় পর ৬ অগাস্ট টার্মিনালটি আংশিকভাবে চালু হয়। এরপর কারিগরি সমস্যা ও এলএনজি কার্গোর স্বল্পতায় সরবরাহ কয়েক দফা ওঠানামা করে।
আগুন লাগার আগে মহেশখালীর দুই টার্মিনাল থেকে সাধারণত দৈনিক ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আসছিল। দীর্ঘ সময় কম সরবরাহের পর সেপ্টেম্বরে আরএলএনজি সরবরাহ আবার এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুটের ঘরে ওঠে। এর মধ্যে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূল ও উত্তর বঙ্গোপসাগরে ঝড়ো আবহাওয়া চলছে।
ন্ম্নিচাপের কারণে আবহাওয়া অধিদপ্তর চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো আবহাওয়ার আশঙ্কার কথাও বলা হয়েছে।














