২১ অক্টোবর ২০২৬

নাইক্ষ্যংছড়িতে পাহাড়ি ঢলে সেতু ধস, বিচ্ছিন্ন দুই ইউনিয়নের যোগাযোগ

টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়ন এবং কক্সবাজারের রামু উপজেলার ঈদগড় ইউনিয়নের সংযোগস্থলে গর্জন খালের ওপর নির্মিত একমাত্র সেতুটি ধসে পড়েছে। এতে দুই ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে অন্তত ১০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোররাত প্রায় ৪টার দিকে বাইশারী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মুইঅং পাড়া ও ঈদগড় ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চাইঙ্গবাজার সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে বিকট শব্দে সেতুটি খালের মধ্যে ধসে পড়ে।

সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, কংক্রিটের পুরো সেতুটি ভেঙে খালের গর্ভে পড়ে আছে। ফলে দুই এলাকার মানুষের চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীরা।

মুইঅং পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মংচাচিং মার্মা বলেন, ভোররাতে বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে বাইরে এসে দেখেন সেতুটি সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে। এতে পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মংঞাই কারবারি বলেন, এই সেতুই ছিল এলাকার মানুষের জীবনরেখা। বাজার, স্কুল, হাসপাতালসহ সব ধরনের যাতায়াতের জন্য মানুষ এই পথ ব্যবহার করত। সেতু ধসে পড়ায় তারা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।

কিউচিং মং মার্মা জানান, শিশুদের বিদ্যালয়ে পাঠানো এবং জরুরি রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণ ছাড়া বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেই।

স্থানীয় বাসিন্দা বাবু অংমিও থোয়াই অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের বন্যায় সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও স্থায়ীভাবে পুনর্নির্মাণ করা হয়নি। দীর্ঘদিনের অবহেলার কারণেই এবার সেটি পুরোপুরি ধসে পড়েছে।

এলাকাবাসী জানান, প্রতিদিন শতাধিক শিক্ষার্থী এই সেতু দিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে। এছাড়া কৃষিপণ্য পরিবহন, বাজার ও চিকিৎসাসেবাসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনের সবকিছুই এই সেতুর ওপর নির্ভরশীল ছিল। সেতুটি ভেঙে পড়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) মাধ্যমে নির্মিত সেতুটি মাত্র নয় বছরের মাথায় ২০২৪ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চলাচল চললেও স্থায়ী পুনর্নির্মাণ না হওয়ায় এবার পাহাড়ি ঢলের স্রোতে সেটি সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যায়।

বাইশারী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. আনোয়ার সাদেক বলেন, সেতু ধসে পড়ায় এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ ও স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলম (কোম্পানি) বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাটি খোঁজ নিয়েছেন। আপাতত মানুষের চলাচলের জন্য অস্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং পরে স্থায়ী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. এনামুল হাসান বলেন, স্থানীয় চেয়ারম্যানকে দ্রুত একটি অস্থায়ী সাঁকো নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খালের পানি কমে গেলে স্থায়ী সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দীর্ঘদিনের অবহেলায় গুরুত্বপূর্ণ এই সংযোগ সেতুটি ধসে পড়ায় দ্রুত পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের আশঙ্কা, বর্ষা মৌসুমে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা না নিলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ