কম শুল্কের পণ্যের ঘোষণা দিয়ে আমদানি করা হচ্ছিল উচ্চ শুল্কের প্রসাধনী, গাড়ির যন্ত্রাংশ, নাট-বল্টু ও বিয়ারিং। কোথাও টুথপিকের চালানে মিলেছে নিষিদ্ধ ক্রিম, কোথাও পাওয়ার স্প্রেয়ার মেশিনের আড়ালে এসেছে স্টেজ লাইট ও প্রসাধনসামগ্রী। পণ্যের মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে শুল্ক ফাঁকির এমন আটটি ঘটনা শনাক্ত করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) ও চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের যৌথ অভিযান।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) এনবিআরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক ও ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) এজেন্টদের বিরুদ্ধে কাস্টমস আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
টুথপিকের চালানে নিষিদ্ধ ক্রিম
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার ফরচুন গ্লোবাল ট্রেডিং চীন থেকে ১১ হাজার ৯৫৬ কেজি পাওয়ার স্প্রেয়ার মেশিন আমদানির ঘোষণা দিলেও কনটেইনারে পাওয়া যায় স্টেজ লাইট, ফেস ক্রিম, সান ক্রিম, সিরাম, শ্যাম্পু, সানগ্লাসসহ বিভিন্ন পণ্য। এ চালানে আনুমানিক আড়াই কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা শনাক্ত হয়েছে।
অন্যদিকে, পুরান ঢাকার কাফ কর্পোরেশনের একটি চালানে সাড়ে ২২ টন টুথপিক আমদানির ঘোষণা দেওয়া হলেও বাস্তবে পাওয়া যায় মাত্র ১ হাজার ৬২০ কেজি। বাকি পণ্যের মধ্যে ছিল বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনী, হেয়ার রিমুভার স্প্রে, সানগ্লাস ও যৌন উত্তেজক ডিলে স্প্রে। এ ঘটনায় প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির তথ্য পাওয়া গেছে। চালানটিতে বিএসটিআই কর্তৃক নিষিদ্ধ ক্রিমও ছিল।
গাড়ির যন্ত্রাংশ ও শিল্পপণ্যেও গরমিল
ঢাকার এইচ আর এন্টারপ্রাইজের আমদানি করা ইঞ্জিন রবার বুশের চালানে ঘোষণার সঙ্গে পণ্যের বড় ধরনের অমিল পাওয়া যায়। ১৬ হাজার ৪০ কেজি রবার বুশের ঘোষণা থাকলেও প্রকৃত পণ্য ছিল ৬ হাজার ৬২৫ কেজি। বাকি পণ্যের মধ্যে ছিল গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ। এ ঘটনায় আনুমানিক ৪৪ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির তথ্য জানিয়েছে সিআইসি।
নিউ ট্রাস্ট ট্রেডার্সের হিট ট্রান্সফার পেপারের চালানে পাওয়া যায় বিপুল পরিমাণ পিভিসি ফ্লেক্স ব্যানার। এতে প্রায় ৪০ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির তথ্য পাওয়া যায়।
এ ছাড়া মোহাম্মাদীয়া ট্রেডের স্টেইনলেস স্টিল সার্কেল ও এক্সকাভেটর গিয়ারের ঘোষণার বিপরীতে ২২ হাজার ১১৩ কেজি নাট, বল্টু ও স্ক্রু পাওয়া যায়। এ ঘটনায় আনুমানিক ৩২ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির তথ্য শনাক্ত হয়েছে। নিউ রনি এন্টারপ্রাইজের একটি চালানে নাট-বল্টু, রোলিং বিয়ারিং ও গ্যাস লিফট সিলিন্ডার পাওয়া যায়। এতে প্রায় ৪২ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির তথ্য জানিয়েছে এনবিআর।
কাস্টমসের সিল বদলের অভিযোগ
শুল্ক ফাঁকির পাশাপাশি কাস্টমসের নজরদারি এড়াতে কনটেইনারের সিল পরিবর্তন ও নথিপত্র জালিয়াতির চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে।
এনবিআরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুল্ক ফাঁকির তথ্যের ভিত্তিতে কাফ কর্পোরেশনের আরেকটি কনটেইনার এএসওয়াইসিইউডিএ ওয়ার্ল্ড ব্যবস্থায় লক করা হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত কায়িক পরীক্ষার আগেই গত ১৯ সেপ্টেম্বর কনটেইনারটি সরানোর চেষ্টা করা হয়। এ সময় মূল সিল ভেঙে অন্য সিল লাগানো এবং বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ পাওয়া যায়। পরে কনটেইনারটি জব্দ করে নিরাপত্তা হেফাজতে নেওয়া হয়।
এনবিআর জানিয়েছে, ডিজিটাল ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে এসব অনিয়ম শনাক্ত করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় রাজস্ব সুরক্ষা ও দেশীয় শিল্পের স্বার্থে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কাস্টমস আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।














