কক্সবাজারের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা ও ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। পরিবেশ রক্ষার দোহাই দিয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা না করার আহ্বান জানিয়ে সুগন্ধা থেকে কলাতলী পর্যন্ত নির্মাণাধীন সৈকত সড়কের কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি জানান তারা।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে পর্যটন উদ্যোক্তা, সাংবাদিক, আইনজীবী, ব্যবসায়ী, হোটেল-মোটেল মালিক, শ্রমিক, ক্রীড়াবিদ ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দীন বাহারীর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন ইতিহাস গবেষক ও পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি মুহম্মদ নুরুল ইসলাম, পর্যটন উদ্যোক্তা সিআইপি আব্দু শুক্কুর, কক্সবাজার আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আকতার উদ্দিন হেলালী, কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি কামাল হোসেন আযাদ, সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালীসহ পর্যটন ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা।
সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সহ-সভাপতি ও পর্যটন উদ্যোক্তা এম আর মাহবুবের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তারা বলেন, কক্সবাজারের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি পর্যটন শিল্প। দীর্ঘদিনেও পর্যটন শিল্পের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। বিভিন্ন সময় নেতৃত্বের ঘাটতি ও নানা বাধার কারণে পর্যটন খাত পিছিয়ে রয়েছে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, বর্তমানে সুগন্ধা থেকে কলাতলী পর্যন্ত নির্মাণাধীন সৈকত সড়ক নিয়ে একটি মহল অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। তাদের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি নির্মিত হলে পর্যটন এলাকার যানজট কমার পাশাপাশি কক্সবাজারের সৌন্দর্য ও পর্যটন সুবিধা আরও বাড়বে।
তারা বলেন, কক্সবাজারবাসী পরিবেশের বিরুদ্ধে নয়। পরিবেশ রক্ষা নিশ্চিত করেই উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এগিয়ে নিতে হবে। তবে পরিবেশ রক্ষার দোহাই দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের বিরোধিতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বক্তারা আরও বলেন, কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান তারা।
সমাবেশ শেষে কক্সবাজারের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা এবং কথিত ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়।














