২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অনৈতিক সম্পর্ক প্রমাণিত

পরীমণিকাণ্ডে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হচ্ছে এডিসি সাকলায়েনকে

চিত্রনায়িকা পরীমণির সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত ও ‘অনৈতিক সম্পর্ক’র অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) এবং বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত করা প্রজ্ঞাপনের সারসংক্ষেপে ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্বাক্ষর করেছেন। এখন সেটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হয়ে রাষ্ট্রপতির দপ্তরে পাঠানো হবে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২১ সালে। ওই বছরের ৯ জুন সাভারের ঢাকা বোট ক্লাবে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তোলেন চিত্রনায়িকা পরীমণি। পরে ১৪ জুন ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের বিরুদ্ধে মামলা করেন তিনি। সেই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন তৎকালীন ডিবি কর্মকর্তা গোলাম সাকলায়েন।

এরপর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে আসে, তদন্ত চলাকালে পরীমণির সঙ্গে সাকলায়েনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০২১ সালের ১ আগস্ট পরীমণিকে সাকলায়েনের সরকারি বাসভবনে প্রবেশ ও গভীর রাতে বের হতে দেখা যায়। সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

অভিযোগের পর সাকলায়েনকে ডিবি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নথি অনুযায়ী, পুলিশ অধিদপ্তরের সরবরাহ করা কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২১ সালের ৪ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে তিনি পরীমণির বাসায় অবস্থান করেছেন। এছাড়া পরীমণির মোবাইল ফোনের ফরেনসিক বিশ্লেষণেও দুজনের মধ্যে নিয়মিত ব্যক্তিগত ও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের তথ্য পাওয়া যায়।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সাকলায়েন ও পরীমণির মধ্যকার বার্তা আদান-প্রদান সাধারণ পরিচিতি বা পেশাগত যোগাযোগের পর্যায়ে ছিল না; বরং তা ব্যক্তিগত ও প্রেমের সম্পর্কের ইঙ্গিত বহন করে।

এছাড়া ২০২১ সালের ১ আগস্ট নিজের স্ত্রী বাসায় না থাকা অবস্থায় পরীমণিকে সরকারি বাসভবনে নিয়ে গিয়ে প্রায় ১৭ ঘণ্টা একসঙ্গে অবস্থানের তথ্যও তদন্তে উঠে আসে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে সরকারি দায়িত্বের বাইরে একজন আলোচিত মামলার বাদীর সঙ্গে এ ধরনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন পুলিশের ভাবমূর্তি ও সরকারি চাকরির শৃঙ্খলার পরিপন্থী।

তদন্তে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে ‘গুরুদণ্ড’ হিসেবে বাধ্যতামূলক অবসরের সুপারিশ করা হয়। পরে সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) মতামত নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

তবে এ বিষয়ে গোলাম সাকলায়েন ও চিত্রনায়িকা পরীমণির বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেননি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।পাঁচ বছর আগে শুরু হওয়া আলোচিত এই বিতর্কের পর অবশেষে প্রশাসনিকভাবে চূড়ান্ত পরিণতির মুখে পড়লেন সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন