৩০ অক্টোবর ২০২৬

সিডিএ’র ‘রেড অ্যালার্ট’, এক মাসের সময়

পার্কিং নেই, নকশায় অনিয়ম— হাসপাতালগুলোকে সিডিএ চেয়ারম্যানের আল্টিমেটাম

চট্টগ্রাম নগরীর যানজট নিরসন, অনুমোদিত নকশার বাস্তবায়ন এবং বেসরকারি হাসপাতালগুলোর পার্কিং ব্যবস্থা যাচাইয়ে সরেজমিনে অভিযান চালিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। পরিদর্শনে একাধিক হাসপাতালের অনুমোদিত নকশা, ভূমি ব্যবহার, পার্কিং ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থায় গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে এক মাসের আল্টিমেটাম দিয়েছেন সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সিডিএ চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের টিম নগরের মেহেদিবাগ ও পাঁচলাইশ এলাকার ন্যাশনাল হাসপাতাল, ম্যাক্স হাসপাতাল, এরিস্ট্রোকেয়ার হাসপাতাল, ইপিক হাসপাতালের তিনটি শাখা এবং পপুলার হাসপাতাল পরিদর্শন করে।

পরিদর্শনে দেখা যায়, অধিকাংশ হাসপাতাল আবাসিক বা আবাসিক-কাম-বাণিজ্যিক ভবনের অনুমোদন নিয়ে হাসপাতাল পরিচালনা করছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে অনুমোদিত পার্কিং দখল করে দোকান, ওয়াশিং প্ল্যান্ট, নামাজের স্থানসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত পার্কিং না থাকায় হাসপাতালের সামনে সড়কে যানবাহন দাঁড়িয়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।

ন্যাশনাল হাসপাতালে অনুমোদিত নকশায় ৫০টি পার্কিং থাকলেও বাস্তবে পাওয়া গেছে মাত্র ২৮টি। অবশিষ্ট জায়গায় বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাও অপ্রতুল এবং জরুরি ফায়ার সিঁড়িতে ময়লার স্তূপ দেখা যায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক মাসের মধ্যে পার্কিং অবমুক্ত ও সম্প্রসারণের আশ্বাস দিয়েছে।

ম্যাক্স হাসপাতালে পার্কিংয়ের বড় অংশ চিকিৎসকদের গাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনায় দখল হয়ে আছে। সিডিএ কর্তৃপক্ষ পার্কিং এলাকা অবমুক্ত এবং সড়কের প্রতিবন্ধকতা দূর করার নির্দেশ দেয়।

এরিস্ট্রোকেয়ার হাসপাতাল আবাসিক ভবনের অনুমোদন নিয়ে নির্মিত হলেও হাসপাতাল পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র নেয়নি। পরিদর্শনে অনুমোদিত নকশার ব্যাপক বিচ্যুতির পাশাপাশি সীমিত পার্কিংয়ের বিষয়টিও উঠে আসে।

সবচেয়ে বেশি অনিয়ম পাওয়া যায় ইপিক হাসপাতালের বিভিন্ন ভবনে। নকশার বাইরে লিফট নির্মাণ, পার্কিং এলাকায় বাণিজ্যিক দোকান ভাড়া, ড্রাইভওয়ে না রাখা এবং অগ্নি প্রতিরোধ ব্যবস্থার ঘাটতি পাওয়ায় হাসপাতালের এক্সটেনশন ভবনের কার্যক্রম দ্রুত বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে পপুলার হাসপাতাল অনুমোদিত নকশায় নির্ধারিত ৪০ ফুট খোলা জায়গা দখল করে ভবন নির্মাণ করেছে। এছাড়া সংযুক্ত আরেকটি ভবনের অনুমোদিত নকশাও কর্তৃপক্ষ দেখাতে পারেনি।

পরিদর্শন শেষে আগামী সোমবার সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনুমোদিত নকশা, ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে সিডিএ কার্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, হাসপাতাল একটি উচ্চ জনসমাগমের স্থাপনা। তাই অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী পর্যাপ্ত পার্কিং, অগ্নিনিরাপত্তা, ভূমিকম্প সহনশীলতা এবং অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক।

তিনি বলেন, ‘রোগীদের জন্য পার্কিং নেই, অথচ চিকিৎসকদের গাড়ি দীর্ঘ সময় পার্কিং দখল করে থাকে। পার্কিং এলাকায় কোনো ধরনের স্থাপনা রাখা যাবে না। চিকিৎসকদের গাড়ি শুধু প্রয়োজনের সময় হাসপাতাল প্রাঙ্গণে প্রবেশ করবে— এমন ব্যবস্থা করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জনস্বার্থে হাসপাতালগুলোকে এক মাস সময় দেওয়া হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে সিডিএ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

যানজট নিরসনে হাসপাতালগুলোর সামনে অপ্রয়োজনীয় ইউ-টার্ন বন্ধ, সড়ক ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং যান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণেরও নির্দেশনা দেন সিডিএ চেয়ারম্যান।

আরও পড়ুন