পার্বত্য চট্টগ্রামকে পরিবেশবান্ধব ও কৃষিবান্ধব অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার নানা উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। তিনি বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের ভাগ্যের আমূল পরিবর্তনে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ আগ্রহ রয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ঢাকার বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স ভবনের সভাকক্ষে আয়োজিত ২০২৬ সালের জুলাই মাসের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) পর্যালোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মীর হেলাল বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে পার্বত্যাঞ্চলকে কৃষিবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার বড় সুযোগ রয়েছে। এ জন্য পাহাড়ের কৃষকদের বিকল্প ও লাভজনক কৃষিতে উৎসাহিত করতে হবে। সমাজ ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর তামাক চাষ বন্ধ করে ইক্ষু, তুলা, কাজু বাদাম ও কফি চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে অর্গানিক ফলের বাগান বাড়ানোর পাশাপাশি রাম্বুটান চাষ সম্প্রসারণ করতে হবে। পাহাড়ে উৎপাদিত কৃষিপণ্যের সঠিক সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করতে কোল্ড স্টোরেজ এবং ড্রাই ফ্রুটস প্রসেসিংয়ের আধুনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। পাশাপাশি দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের সুপেয় পানির সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের বিষয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘসূত্রতা পরিহার করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব প্রকল্পের কাজ শেষ করতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি অধিগ্রহণের কাজও সময়মতো সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক। অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত প্রকৃত পরিবারগুলোকে সরকারি খাসজমিতে যথাযথভাবে পুনর্বাসন করা হবে।
ভূমির মালিকানা সংক্রান্ত জটিলতা প্রসঙ্গে মীর হেলাল বলেন, প্রথাগত বিধি অনুযায়ী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে আলোচনা করে এসব সমস্যার সমাধান করা হবে।
শিক্ষা ও টেকসই উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পাহাড়ের শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা হচ্ছে। পাড়াকেন্দ্রের মেয়েদের জন্য বিশেষ শিক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি সেন্ট্রাল স্যাটেলাইটের মাধ্যমে দ্রুত মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সাচিং প্রু এমপি। তিনি পাহাড়ি জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে কাজু বাদাম, কফি, মাশরুম ও লটকন চাষের পাশাপাশি ভেড়া-মেষ পালনের মাধ্যমে পাহাড়ি অর্থনীতিতে নতুন গতি সৃষ্টির আহ্বান জানান।
পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুল ইসলাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কে এস মং, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমা, ভাইস চেয়ারম্যান শেখ ছালেহ আহাম্মদসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।














