প্রিন্টিং মেশিন আমদানির ঘোষণা দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আনা হয়েছিল একটি কনটেইনার। কিন্তু কাস্টমস গোয়েন্দাদের তল্লাশিতে বেরিয়ে এসেছে ভিন্ন চিত্র। কনটেইনারে প্রিন্টিং মেশিনের পরিবর্তে পাওয়া গেছে বিপুল পরিমাণ প্রসাধনী সামগ্রী এবং ৪০ লাখ ৮০ হাজার পিস জাল সিগারেটের স্ট্যাম্প। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) ও চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের এআইআর শাখার যৌথ অভিযানে প্রায় ৪৬ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির অপচেষ্টা উদ্ঘাটিত হয়েছে।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্কের লেভেল-৩, ব্লক-এ, শপ নম্বর ৩ সি ০০৪ ঠিকানায় অবস্থিত ‘চায়না মার্ট’ নামের প্রতিষ্ঠানটি চালানটি আমদানি করে। গত ৯ আগস্ট চালানটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। আমদানি নথিতে পণ্য হিসেবে ‘প্রিন্টিং মেশিন’ ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।
গোপন তথ্য ও ঝুঁকিভিত্তিক গোয়েন্দা নজরদারির আওতায় রাখার পর গত ৫ নভেম্বর সিআইসি ও চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের এআইআর শাখার কর্মকর্তারা যৌথভাবে কনটেইনারটি বিস্তারিত পরীক্ষা করেন। এ সময় ঘোষিত কোনো প্রিন্টিং মেশিন পাওয়া যায়নি। বরং কনটেইনারজুড়ে পাওয়া যায় বিপুল পরিমাণ প্রসাধনী সামগ্রী ও জাল সিগারেটের স্ট্যাম্প।
পরীক্ষায় ৪০ লাখ ৮০ হাজার পিস জাল সিগারেটের স্ট্যাম্প উদ্ধার করা হয়। এসব স্ট্যাম্প নিম্নস্তরের (লো সেগমেন্ট) ২০ শলাকার সিগারেটের প্যাকেটে ব্যবহারের উপযোগী। দেশে এ ধরনের একটি সিগারেটের প্যাকেটের নির্ধারিত খুচরা মূল্য ১৩০ টাকা। এর বিপরীতে সরকার রাজস্ব পায় ১০৬ টাকা ৬০ পয়সা।
সংশ্লিষ্ট হিসাব অনুযায়ী, উদ্ধার করা জাল স্ট্যাম্প ব্যবহার করে অবৈধভাবে সিগারেট উৎপাদন ও বাজারজাত করা হলে সরকারের প্রায় ৪৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার রাজস্ব ক্ষতি হতে পারত। অন্যদিকে, কনটেইনারে পাওয়া প্রসাধনী সামগ্রীর বিপরীতে প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার শুল্ক-কর ফাঁকির বিষয়টি চিহ্নিত হয়েছে। সব মিলিয়ে সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৬ কোটি টাকা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাল সিগারেটের স্ট্যাম্প ব্যবহার করে অবৈধভাবে সিগারেট উৎপাদন ও বাজারজাত করা হলে একদিকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারায়, অন্যদিকে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনাকারী তামাকজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু রাজস্ব ব্যবস্থার জন্য নয়, দেশের বৈধ বাণিজ্যিক পরিবেশের জন্যও বড় হুমকি।
এনবিআর জানিয়েছে, আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে পণ্য ঘোষণায় অসত্য তথ্য প্রদান, শুল্ক-কর ফাঁকি এবং অবৈধ পণ্য বাজারজাতকরণ প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি ও ঝুঁকিভিত্তিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।













