১৩ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশে ঢুকবে নেপালের পাহাড়ি ঢল, গঙ্গা-পদ্মায় সতর্কতা

নেপালের তিব্বত সীমান্তে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পানি ধীরে ধীরে ভারতের বিহারের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এই পানি গঙ্গা নদীর প্রবাহে যুক্ত হয়ে ফারাক্কা বাঁধ অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে। পরে যমুনার সঙ্গে মিলিত হয়ে পদ্মা নদীর প্রবাহে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এ তথ্য জানিয়েছেন কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ুবিষয়ক গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ।

তিনি জানান, তিব্বত-নেপাল সীমান্তে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যার পানি ভোটি কোশি ও ত্রিশুলি নদী হয়ে নারায়ণী-গন্ধক নদীব্যবস্থার মাধ্যমে ভারতের বিহারের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এরই মধ্যে ভারতের কেন্দ্রীয় পানি কমিশন গন্ধক নদীর ভাটি এলাকায় সম্ভাব্য আকস্মিক পানি বৃদ্ধির বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিহার রাজ্য সরকার ভালমিকিনাগরের গন্ধক বাঁধের সব ৩৬টি গেট খুলে দিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গন্ধক নদীর অতিরিক্ত পানি বিহারের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে হাজিপুর-সোনপুর এলাকার কাছে গঙ্গা নদীতে মিলিত হবে। এরপর গঙ্গার মূল প্রবাহের সঙ্গে পূর্বদিকে অগ্রসর হয়ে ফারাক্কা বাঁধ অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। পরবর্তী সময়ে যমুনার সঙ্গে মিলিত হয়ে এই প্রবাহ পদ্মা নদীর পানিতে যুক্ত হবে।

তবে নেপাল থেকে আসা এই পাহাড়ি ঢলের পানি ঠিক কখন বাংলাদেশে পৌঁছাবে, তা এখনই নির্ভরযোগ্যভাবে বলা সম্ভব নয়। নদীপথে দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রমের সময় বন্যার পানির গতি ও শক্তি অনেকটাই কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় পানি কমিশনও ভাটির দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় ঢলের শক্তি ক্ষয় হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছে।

এদিকে বিহারের গঙ্গা নদীর কয়েকটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে এরই মধ্যে পানি বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে। ফলে নেপাল থেকে আসা অতিরিক্ত পানি গঙ্গায় যুক্ত হলে ভাটি অঞ্চলের পরিস্থিতি আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

নেপালের পাহাড়ি ঢলের সম্ভাব্য গতিপথ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে— ভালমিকিনগর থেকে গন্ধক নদী, এরপর হাজিপুর-সোনপুর হয়ে গঙ্গা নদী, পূর্ব বিহার, ফারাক্কা এবং সবশেষে বাংলাদেশ।

তবে এ নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে বাংলাদেশের গঙ্গা-পদ্মা নদীর তীরবর্তী এবং বিশেষ করে চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের আগামী কয়েক দিন নদীর পানির উচ্চতা ও পরিবর্তনের ওপর সতর্ক নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ