২১ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাধারায় সংবাদের পর ল্যানসেটে সিডিএ’র অভিযান, এক মাসের আল্টিমেটাম

আবাসিক ভবনে হাসপাতাল পরিচালনা, পার্কিংয়ের জায়গায় ক্যান্টিন ও ওষুধের দোকান, নকশাবহির্ভূত ব্যবহার এবং অগ্নিনিরাপত্তা ও জরুরি নির্গমন ব্যবস্থায় ঘাটতির অভিযোগে চট্টগ্রাম নগরের বেসরকারি ‘ল্যানসেট হাসপাতালে’ অভিযান চালিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। অভিযানে অনিয়ম চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এক মাসের মধ্যে বিকল্প স্থানে যাওয়ার অঙ্গীকারনামা নেওয়া হয়েছে।

এর আগে ‘হাসপাতাল নাকি মৃত্যুফাঁদ, চট্টগ্রামে হেলে পড়েছে ল্যানসেট হাসপাতাল’ শিরোনামে বাংলাধারায় একটি ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের পর সোমবার (২৪ আগস্ট) ল্যানসেট হাসপাতালসহ নগরের কয়েকটি হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনিয়ম তদন্তে অভিযান পরিচালনা করে সিডিএ।

অভিযানে ল্যানসেট হাসপাতালের পাশাপাশি শেভরণ ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও আল হিদায়াহ স্কুলেও নকশা ও বিধিবিধান না মানার বিভিন্ন চিত্র উঠে আসে।

সিডিএ সূত্র জানায়, ল্যানসেট হাসপাতাল যে ভবনে পরিচালিত হচ্ছে, সেটি আবাসিক ব্যবহারের অনুমোদনপ্রাপ্ত। অথচ সেখানে পরিচালিত হচ্ছে হাসপাতালের মতো বাণিজ্যিক ও জনসমাগমপূর্ণ কার্যক্রম। একই সঙ্গে ভবনের পার্কিংয়ের নির্ধারিত জায়গায় ক্যান্টিন ও ওষুধের দোকান পরিচালনার বিষয়টিও অভিযানে উঠে আসে।

এ ছাড়া হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বিকল্প অগ্নিনিরাপত্তা ও জরুরি নির্গমন ব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে বলে সিডিএর অভিযানে চিহ্নিত করা হয়। এসব বিষয়কে জননিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সংস্থাটি।

সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম, হাসপাতালের পার্কিং ব্যবস্থার কারণে যানজট এবং নকশাবহির্ভূত ভবন ব্যবহারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চলছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়, অনিয়মের বিরুদ্ধে এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।’

সিডিএ চেয়ারম্যান জানান, আবাসিক ভবনে পরিচালিত হাসপাতালগুলোকে এক মাসের মধ্যে বিকল্প জায়গায় স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে আবাসিক ভবনে পরিচালিত একটি স্কুলকেও এক মাসের মধ্যে বিকল্প স্থানে যাওয়ার অঙ্গীকারনামা নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালগুলোর কিছু পার্কিং-সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে তিন মাসের সময় দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অভিযানের পর কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে পার্কিং ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পরিবর্তন এসেছে। তবে এসব পরিবর্তন কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন।

এদিকে ল্যানসেট হাসপাতালের পরিচালক মহসীন হোসেন বলেন, হাসপাতাল পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন তাদের রয়েছে। মানুষের সেবা দেওয়ার লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছে এবং অনেক কর্মচারীর জীবিকা এ প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল।

তিনি বলেন, হাসপাতালের লাইসেন্সসহ অন্যান্য অনুমোদনও রয়েছে। তবে পার্কিংয়ের জায়গায় কিছুটা দুর্বলতা রয়েছে। সিডিএ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় দুর্বলতা দূর করার চেষ্টা করা হবে।

ভবনটি আবাসিক হিসেবে কীভাবে অনুমোদন পেয়েছে— এ বিষয়ে ল্যানসেট হাসপাতালের পরিচালক মহসীন হোসেনবলেন, বিষয়টি ভবন মালিকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তারা ভাড়াটিয়া হিসেবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। অতীতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিদর্শন করেই বিভিন্ন অনুমোদন দিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সিডিএ জানিয়েছে, এক মাসের সময়সীমা শেষে এসব প্রতিষ্ঠান পুনরায় পরিদর্শন করা হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনিয়ম দূর করা না হলে সিলগালা, উচ্ছেদসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

নগর পরিকল্পনাবিদ ও নাগরিক প্রতিনিধিরা বলছেন, আবাসিক ভবনে হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা এবং নকশাবহির্ভূত ব্যবহার চট্টগ্রাম নগরের দীর্ঘদিনের সমস্যা। বিশেষ করে হাসপাতালের পার্কিং ও অগ্নিনিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার বিষয়টি জড়িত।

তাদের মতে, শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না; নির্ধারিত সময় শেষে প্রতিষ্ঠানগুলো সত্যিই নিয়ম মেনেছে কি না, তা কঠোরভাবে মনিটরিং করতে হবে। একই সঙ্গে নকশা ও ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রয়োজন হলে পর্যালোচনা করা উচিত।

সিডিএর এই অভিযানের ফলে নগরের আবাসিক ভবনে পরিচালিত হাসপাতাল ও অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন ও ব্যবহার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এক মাসের আল্টিমেটামের পর ল্যানসেটসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো অনিয়ম দূর করে কি না এবং সিডিএ পরবর্তী সময়ে কী ব্যবস্থা নেয়।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ