চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যকরী পরিষদ নির্বাচন ঘিরে নির্বাচন কমিশনের ভেতরেই প্রকাশ্যে এসেছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন, পক্ষপাতমূলক আচরণ, আচরণবিধি ভঙ্গ এবং মনোনয়ন বাতিলকে কেন্দ্র করে আদালতপাড়ায় তৈরি হয়েছে উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা।
পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশনের মধ্যে তিন কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের দাবি তুলেছেন অপর দুই কর্মকর্তা। এ ঘটনায় আইনজীবীদের মধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, দ্রুত সমাধান না হলে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।
জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনের মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট রৌশন আরা বেগমসহ তিনজন বিএনপিপন্থী এবং দুইজন জামায়াতপন্থী হিসেবে পরিচিত। কমিশনের সদস্য মোহাম্মদ ফরিদুল আলম ও এইচ এম আশরাফ উদ্দিন গত ৭ মে সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর দেওয়া এক আবেদনে মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা রৌশন আরা বেগম, নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীম ও মো. সেলিম উদ্দিনকে প্রত্যাহারের দাবি জানান।
আবেদনে অভিযোগ করা হয়, শুরু থেকেই সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমার জন্য ৭২ ঘণ্টা সময় নির্ধারিত থাকলেও মাত্র তিন ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যাচাই-বাছাই শেষে নির্ধারিত সময়ে বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ না করে পরদিন রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তালিকা প্রকাশ করা হয়, যেখানে আবেদনকারী দুই কর্মকর্তার কোনো স্বাক্ষর ছিল না।
তাদের অভিযোগ, প্রকাশিত তালিকায় ব্যাকডেট ব্যবহার করা হয়েছে এবং যথাযথভাবে মনোনয়ন জমা দেওয়া কয়েকজন প্রার্থীর নাম কারণ ছাড়াই বাদ দেওয়া হয়েছে। নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে নতুন নির্বাচন কর্মকর্তা নিয়োগের দাবিও জানিয়েছেন তারা।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নির্বাচন কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট মো. সেলিম উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বে থেকে কেউ দলীয় অবস্থান নিয়ে বক্তব্য দিলে তা আচরণবিধির পরিপন্থী। নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাখতে কমিশন নমনীয়তা দেখালেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কয়েকজন প্রার্থী শর্ত পূরণ না করায় নিয়ম অনুযায়ী তাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।’
তিনি দাবি করেন, কিছু প্রার্থী আংশিক অর্থ পরিশোধ করে চেকের মাধ্যমে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন। পরে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাকি অর্থ পরিশোধ না করায় ফরম বাতিল করা হয়। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট চেক ও নথিপত্র জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে তা বাতিল ও নতুন কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত চট্টগ্রাম ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামসুল আলম। তার অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের তিন সদস্য জাতীয়বাদী আইনজীবী ফোরামের পক্ষে কাজ করছেন এবং আসন সমঝোতার প্রস্তাব না মানায় তাদের কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মনোনয়ন ফি নগদে পরিশোধের পরও পরে চেক-সংক্রান্ত অজুহাত তোলা হচ্ছে, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও পক্ষপাতের অভিযোগ এনে নতুন তফসিল ঘোষণার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও জাতীয়বাদী আইনজীবী ফোরামের নেতা অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার বলেন, ‘সমিতির দায়িত্ব ছিল নির্বাচন কমিশন গঠন করে দেওয়া, যা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এখন নির্বাচন কমিশনই গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তফসিল ঘোষণা, মনোনয়ন গ্রহণ ও বৈধতা যাচাইয়ের কাজ করছে।’
তিনি বলেন, ‘কেউ সংক্ষুব্ধ হলে আদালতে যেতে পারেন। নির্বাচন সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা দেখবে নির্বাচন কমিশন ও আদালত। সমিতি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাইলেও এ বিষয়ে সভাপতির ব্যক্তিগতভাবে কোনো করণীয় নেই।’














