মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরিতে আয়োজন করা হয়েছিল সমাবেশ। কিন্তু সেই সমাবেশের প্রধান মঞ্চেই দেখা গেল বিএনপির মিছিলে হামলার মামলার এজাহারভুক্ত এক আসামিকে। শুধু তাই নয়, একই মঞ্চে ছিলেন পুলিশের প্রতিনিধি ও বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতা।
ঘটনাটি ঘটেছে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের হাজীগাঁও এলাকায়। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় কর্ণফুলী কটনমিল সংলগ্ন এলাকায় স্থানীয়দের উদ্যোগে আয়োজিত মাদকবিরোধী সমাবেশে প্রধান মঞ্চে বসেন বারখাইন ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোহাম্মদ শাহেদ।
শাহেদকে ঘিরেই এখন স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, তিনি বিএনপির একটি মিছিলে হামলার ঘটনায় করা মামলার এজাহারভুক্ত ১০৪ নম্বর আসামি। একই মামলায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও সাবেক অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়শা খানসহ মোট ১১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।


২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর আনোয়ারা থানায় মামলাটি করেন হাইলধর ইউনিয়নের পীরখাইন গ্রামের বাসিন্দা তৌহিদ মিয়া। মামলার অভিযোগের সূত্রপাত ২০২০ সালের ২০ অক্টোবর কালাবিবি দিঘির মোড়ে বিএনপির একটি মিছিলে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। মামলাটিতে শাহেদকে গ্রেপ্তারও করেছিল পুলিশ। ২০২৫ সালের ২০ জুন তাকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর বাইরেও শাহেদের বিরুদ্ধে রয়েছে নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ। ২০২২ সালের ১৫ জুন পরৈকোড়া ইউনিয়ন পরিষদের উপনির্বাচনের সময় একটি ভোটকেন্দ্রে প্রকাশ্যে ব্যালট পেপারে ভোট দেওয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে উপজেলা প্রশাসন তাকে শোকজ করে। অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ার পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তার ইউপি সদস্য পদ এক বছরের জন্য স্থগিত করে।
এমন পটভূমির একজন জনপ্রতিনিধি মাদকবিরোধী সমাবেশের মঞ্চে অতিথির আসনে বসায় প্রশ্ন উঠেছে— আয়োজকদের কাছে কি তার বিরুদ্ধে থাকা মামলার তথ্য ছিল না?
সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী মো. মোস্তাফিজুর রহমান। পুলিশের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন আনোয়ারা থানার এএসআই শাহ আলম। যদিও অনুষ্ঠানের উদ্বোধক হিসেবে ওসি জুনায়েত চৌধুরীর নাম থাকলেও তিনি উপস্থিত ছিলেন না।
সমাবেশে মোস্তাফিজুর রহমান মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মাদক যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মাদক কারবারিদের সামাজিকভাবে বয়কট করার পাশাপাশি কোনো মাদক ব্যবসায়ী মারা গেলে তার জানাজা ও দাফনেও যেন এলাকাবাসী অংশ না নেয়— এমন আহ্বানও জানান তিনি।
মঞ্চে নিজের উপস্থিতির বিষয়ে ইউপি সদস্য মোহাম্মদ শাহেদ বলেন, সমাবেশটি তার ওয়ার্ড এলাকায় হওয়ায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপি নেতা মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘শাহেদকে স্থানীয় ইউপি সদস্য হিসেবে চিনি। তবে বিএনপির মিছিলে হামলার মামলার আসামি হিসেবে তাকে জানা ছিল না। মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে এক করার জন্যই এই আয়োজন করা হয়েছিল।’
আনোয়ারা থানার ওসি জুনায়েত চৌধুরী বলেন, সমাবেশে পুলিশের উপস্থিতি ছিল। তবে মঞ্চে রাজনৈতিক মামলার আসামি কে ছিলেন, তা তাদের জানা ছিল না। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।














