২৩ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্বকাপ উন্মাদনায় সরগরম চট্টগ্রাম, বিক্রির শীর্ষে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল জার্সি

ফুটবল বিশ্বকাপের পর্দা উঠতে আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। এরই মধ্যে বিশ্বকাপের উত্তাপে কাঁপছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। নগরের ফুটপাত থেকে শুরু করে ছোট-বড় বিপণিবিতান, শপিংমল ও মার্কেটগুলোতে এখন ফুটবলপ্রেমীদের উপচে পড়া ভিড়। প্রিয় দলের জার্সি, পতাকা, ক্যাপ, হাতের ব্যান্ড, বাঁশি ও নানা ফুটবল সামগ্রীর কেনাবেচায় জমে উঠেছে পুরো নগরী।

বিশেষ করে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের জার্সির চাহিদা সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। সেই সঙ্গে জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল, ইংল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও ক্রোয়েশিয়ার জার্সিরও ভালো বিক্রি হচ্ছে।

নগরের এম এ আজিজ স্টেডিয়াম মার্কেট, রিয়াজউদ্দিন বাজার, এপোলো শপিং সেন্টার, টেরিবাজার, চকবাজার ও জিইসি মোড় এলাকার বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড় লেগেই আছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই প্রিয় দলের জার্সি কিনতে আসছেন।

চট্টগ্রাম এম এ আজিজ স্টেডিয়াম মার্কেটের স্পোর্টস সামগ্রী বিক্রেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, “বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে বিক্রি অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের জার্সির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। আগামী সপ্তাহ থেকে বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা করছি।”

ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে বিক্রি হওয়া জার্সির প্রায় ৯০ শতাংশই আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল দলের। বিশ্বকাপের মৌসুমে ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর জার্সির বিক্রি তুলনামূলক কমে গেছে।

নগরের এপোলো শপিং সেন্টারে গড়ে উঠেছে বিশাল জার্সির বাজার। সেখানে দেশীয়ভাবে তৈরি জার্সির পাশাপাশি থাইল্যান্ড ও চীন থেকে আমদানি করা জার্সিও বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে, দেশীয় জার্সি পাইকারিতে ২৫০ থেকে ৬০০ টাকায় এবং আমদানি করা জার্সি ৭০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে এসব জার্সির দাম আরও ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি রাখা হচ্ছে।

এছাড়া প্রিয় খেলোয়াড়ের নাম কিংবা নিজের নাম প্রিন্ট করতে অতিরিক্ত ৬০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হচ্ছে ক্রেতাদের। তরুণদের মধ্যে নিজের নাম লেখা জার্সির চাহিদাও বেড়েছে।

এপোলো শপিং সেন্টারের এক বিক্রেতা জানান, “হোম ও অ্যাওয়ে দুই ধরনের জার্সির চাহিদা রয়েছে। তবে এবার আর্জেন্টিনার হোম জার্সিই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে।”

শুধু অফলাইন নয়, অনলাইনেও জমে উঠেছে বিশ্বকাপকেন্দ্রিক ব্যবসা। ফেসবুকভিত্তিক অনলাইন জার্সি বিক্রয় প্রতিষ্ঠান ‘রনি জার্সিবাজ’-এর মালিক রনি বলেন, “প্রতি সপ্তাহে ৫০০টির বেশি জার্সির অর্ডার পাচ্ছি। ৪০০ থেকে ৬০০ টাকার জার্সির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। তরুণদের পাশাপাশি শিশুদের জার্সির অর্ডারও বাড়ছে।”

বিশ্বকাপকে ঘিরে শুধু জার্সিই নয়, বিভিন্ন দেশের পতাকার বাজারও এখন বেশ সরগরম। নগরের দর্জিপাড়া ও ছোট ছোট টেইলার্স দোকানগুলোতে দিন-রাত চলছে পতাকা তৈরির কাজ। ফুটপাতের ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতারা জানান, ছোট হাতপতাকা থেকে শুরু করে বড় আকারের ছাদ-পতাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

বিক্রেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পাঁচ টাকা থেকে শুরু করে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত দামের পতাকা বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের পতাকা।

বিশ্বকাপ উপলক্ষে জার্সি কিনতে আসা মেজবাউল আলম ফারুক বলেন, “আমার ছেলে-মেয়েরা মেসির বড় ভক্ত। তাই ওদের জন্য আর্জেন্টিনার জার্সি কিনেছি। জার্সিতে ওদের নামও লিখে দেব।”

পোর্টসিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী তানভীর হাসান বলেন, “আমি ছোটবেলা থেকেই আর্জেন্টিনার সমর্থক। বিশ্বকাপ এলেই বন্ধুদের সঙ্গে নতুন জার্সি কিনি। এবার মেসির শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে, তাই বিশেষভাবে আর্জেন্টিনার জার্সি কিনেছি।”

ঈদগাঁও বৌবাজার থেকে আসা গৃহিণী পারভীন আক্তার বলেন, “আমার দুই ছেলে ব্রাজিলের ভক্ত। ওদের জন্য জার্সি আর পতাকা কিনেছি। বিশ্বকাপকে ঘিরে বাসায়ও আলাদা উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে।”

বিশ্বকাপ ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের এই উন্মাদনায় চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরাও এখন স্বপ্ন দেখছেন বড় অঙ্কের বেচাকেনার। তাদের প্রত্যাশা, বিশ্বকাপ শুরু হলে নগরের জার্সি ও পতাকার বাজারে বিক্রি আরও কয়েকগুণ বেড়ে যাবে।

আরও পড়ুন