বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে কক্সবাজারে তিনদিন ব্যাপী বর্ণিল নানা আয়োজন করছে জেলা প্রশাসন। ‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’ প্রতিপাদ্যে বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে দেশের পর্যটন রাজধানী খ্যাত কক্সবাজারে দিবসটি পালিত হবে। অতীতের মতো দিবসটি উপলক্ষ্যে এবারো জমজমাট আয়োজন রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সমন্বয়ক ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) তাসনীম জাহান।
এডিএম জানান, ২০২৩ সালে সর্বশেষ জমজমাট ভাবে বিশ্ব পর্যটন দিবস উদযাপন করা হয়েছিল। গত দু’বছর তেমন কোন আয়োজন ছিল না বললেই চলে। কিন্তু এবার পুরোনো আমেজেই বর্ণাঢ্য কলেবরে পর্যটন দিবস উদযাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অন্য সময়ে বিশ্ব পর্যটন দিবসেই আয়োজন শুরু হয়ে টানা সপ্তাহব্যাপী চলতো। এবার আগেই নানা আয়োজন শুরু হয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে উদযাপন সম্পন্ন করা হবে।
তিনি আরো জানান, এবারের পর্যটন দিবসের আগের দুদিন শুক্র ও শনিবার সপ্তাহিক ছুটি পড়েছে। সমীক্ষা বলছে সপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে কক্সবাজারে ভরপুর পর্যটক উপস্থিতি হয়। সেই চিন্তা মাথায় রেখেই শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দিবসটির আয়োজন শুরু হবে। শুক্রবার দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যা রাত পর্যন্ত ফোক সঙ্গীত, ফায়ার শো ও ব্যান্ড সঙ্গীত আয়োজন থাকবে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) চলবে মিউজিক্যাল নাইট। আর রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, রাখাইন নৃত্য ও সমাপনী সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা আয়োজন হবে। পর্যটন জোনের লাবণী পয়েন্ট সৈকতের উন্মুক্ত মঞ্চে প্রতিদিন বিকেল থেকে এশার পর্যন্ত সময় তিনদিনের আয়োজন উপভোগ করতে পারবেন পর্যটক এবং দর্শণার্থীরা।
ট্যুরস অপারেটর এসোসিয়েশন অব কক্সবাজার (টুয়াক) সভাপতি আনোয়ার কামাল বলেন, অতীতের ধারায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসন এবং বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি যৌথভাবে তিনদিনের আয়োজন করছে। উন্মুক্ত মঞ্চের আশপাশে অর্ধশতাধিক স্টল নিয়ে পর্যটন উৎসবে থাকছে খাদ্য উৎসব, লাইভ কুকিং শো এবং হোটেল-মোটেলের আবাসনে ৫০শতাংশের অধিক ছাড়। এসব স্টলে কক্সবাজারের পর্যটকদের চাহিদাসম্পন্ন জিনিসপত্র তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে থাকবে আচার, শুটকি, পিঠাসহ হরেক রকমের আয়োজন।
জেলা রোস্তারা মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলী জানান, বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষ্যে নানা আয়োজনের মাধ্যমে কক্সবাজারকে তুলে ধরার প্রয়াস নিয়ে ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসন একাধিক বৈঠক করেছে। পর্যটন সংশ্লিষ্ট স্টোকহোল্ডারগণ এতে অংশ নেন। দিবসটিকে রঙ্গিন করে গড়ে তুলতে নানা আয়োজনের খরচ প্রচুর। কিন্তু সরকারি অপ্রতুল বরাদ্দের বাইরে হোটেল-মোটেল-গেস্ট হাউস ও রেস্তোরা মালিকসহ অন্যরা নিজ উদ্যোগে মেলা এবং অন্য সকল আয়োজনে কন্ট্রিভিউশন করছে। সবার একই লক্ষ্য কক্সবাজারের পর্যটনকে বিশ্বময় প্রসারিত করা।
পর্যটন দিবসকে কালারপুল করতে সৈকতের পর্যটন জোনের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করবে বর্ণাঢ্য র্যালি। এতে টুরিস্ট পুলিশের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা, সমুদ্র সৈকতের ঘোড়ার বহর, বীচ বাইকসহ কক্সবাজারের ঐতিহ্য প্রদর্শনীর উদ্যোগ চলছে। পাশাপাশি পর্যটন শিল্পের বিকাশ ও প্রসারে বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড হাতে র্যালিতে পর্যটন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিবর্গ এবং পর্যটকরা অংশ নিবেন। আয়োজনকে সফল করতে সবাইকে অংশ নিতে অনুরোধ জানান জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুর রহমান সায়েম।














