১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মিরসরাইয়ে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি, অন্ধকারে ৭০ পরিবার

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে ২২ ঘন্টারও বেশি সময় অন্ধকারে রয়েছেন ৭০ পরিবার। তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার মিরসরাই সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম কিছমত জাফরাবাদ গ্রামে এ চুরির ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, গত কয়েক মাস ধরে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩-এর আওতাধীন উপজেলার জোরারগঞ্জ, ধুম, ওসমানপুর ও মিরসরাই সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে রাতের আঁধারে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে একটি চক্র। একের পর এক ট্রান্সফরমার চুরি হলেও চক্রের কাউকে এখনো পর্যন্ত আটক করতে পারেনি পুলিশ। এসব এলাকার মানুষ দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎবঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

বিদ্যুৎ বিহীন থাকা পশ্চিম কিছমত জাফরাবাদ গ্রামের বাসিন্দা মো. ওয়াজি উল্যাহ বলেন, ‘বুধবার ফজরের নামাজের সময় ঘুম থেকে ওঠার পর বিদ্যুৎ চলে যায়। বর্তমানে বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে প্রথমে এটিকে স্বাভাবিক লোডশেডিং মনে হলেও সকালে জানতে পারি গ্রামের ট্রান্সফরমারটি চুরি হয়ে গেছে।’

চৈতন্যেরহাট এলাকার বাসিন্দা মো. ফারুক বলেন, কিছুদিন পূর্বে আমাদের এলাকার ট্রান্সমিটার চুরি হয়, সবাই টাকা তুলে আবার নিয়ে স্থাপন করি। কিন্তু গত সপ্তাহে আবার চুরি হয়। পুলিশের উল্লেখযোগ্য কোনো অভিযান দেখছি না।

তিনি আরও বলেন, টাকা না দিলে বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন ট্রান্সফরমার লাগাবেনা। অনেকে মধ্যবৃত্ত ও দিনমজুর। তাদের পক্ষে এতো গুলো টাকা দেওয়া সম্ভব না।’

মো. কামাল পাশা ও মাস্টার আজম বলেন, ‘ট্রান্সফরমার চুরির পর থেকে এলাকার মসজিদের মুসল্লিদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় অনেকের ফ্রিজে থাকা খাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে পাশাপাশি ছোট্ট শিশুদের নিয়ে সমস্যা পড়েছেন মহিলারা।’

তারা আরও বলেন, ‘চুরির বিষয়টি পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে জানালে নতুন ট্রান্সফরমারের জন্য প্রায় ৮৭ হাজার টাকা জমা দিতে বলা হয়েছে। টাকা জমা দেওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তবে গ্রামের অধিকাংশ মানুষই নিম্নআয়ের হওয়ায় হঠাৎ করে এত টাকা জোগাড় করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।’

বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, একটি ৫ কেভিএ ট্রান্সফরমারের মূল্য প্রায় ৫৩ হাজার টাকা, ১০ কেভিএর প্রায় ৮৩ হাজার টাকা, ১৫ কেভিএর ৯৯ হাজার ৯৯৯ টাকা এবং ২৫ কেভিএর একটি ট্রান্সফরমারের মূল্য প্রায় ১ লাখ ৫৯ হাজার টাকা। কোনো এলাকায় প্রথমবার ট্রান্সফরমার চুরি হলে নতুন ট্রান্সফরমার পেতে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের মূল্যের অর্ধেক পরিশোধ করতে হয়। তবে একই এলাকায় দ্বিতীয়বার ট্রান্সফরমার চুরি হলে পুরো মূল্যই গ্রাহকদের বহন করতে হয়। ফলে ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় শুধু বিদ্যুৎ বিভ্রাটই নয়, ভুক্তভোগীদের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপও তৈরি হচ্ছে।

এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩-এর ডিজিএম আদনান আহমদ বলেন, ‘পশ্চিম কিছমত জাফরাবাদে ট্রান্সফরমার চুরির বিষয়ে শুনেছি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছে। তাদের বলা হয়েছে ট্রান্সফরমারের একটা মূল্য আছে ওই মূল্য পরিশোধ করলে সাথে সাথে ট্রান্সফরমার বসানো হবে।’

মিরসরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘ট্রান্সফরমার চুরির বিষয়ে থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আরও পড়ুন