২৬ অক্টোবর ২০২৬

খামারিদের বিক্ষোভ, শেষ কর্মদিবসে পুলিশ পাহারায় দপ্তর ত্যাগ

রাউজানে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, সরকারি প্রণোদনা বিতরণে অনিয়মসহ নানা দুর্নীতির অভিযোগে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জয়িতা বসুর বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন খামারিরা। বিক্ষোভের মুখে শেষ কর্মদিবসে পুলিশ পাহারায় কার্যালয় ছাড়তে হয়েছে সদ্য বদলি হওয়া এই কর্মকর্তাকে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে রাউজান উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের সামনে চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মহাসড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে শতাধিক খামারি ও স্থানীয় বাসিন্দা অংশ নেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ডা. জয়িতা বসুর শেষ কর্মদিবস উপলক্ষে দপ্তরে ঘরোয়া বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছিল। বিষয়টি জানতে পেরে আগে থেকেই আন্দোলনরত খামারিরা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে দপ্তরের সামনে জড়ো হন। একপর্যায়ে তারা বিক্ষোভ শুরু করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

পরে পুলিশ পাহারায় গাড়িতে করে দপ্তর ত্যাগ করেন ডা. জয়িতা বসু। এ সময় আন্দোলনকারীরা তাঁকে লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগান দেন।

জানা গেছে, ডা. জয়িতা বসু ২০২৩ সালের ১৫ অক্টোবর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে রাউজানে যোগ দেন। পরে ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেন। চলতি বছরের জুনের শেষ দিকে খামারিরা তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি প্রণোদনা ও প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন। একই বিষয়ে গত ১৫ আগস্ট ভুক্তভোগীরা সংবাদ সম্মেলন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৩ আগস্ট অফিস আদেশে তাঁকে পটিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে বদলি করা হয়।

মানববন্ধনে মোহাম্মদপুরের আসিফ এগ্রোর স্বত্বাধিকারী মো. আমিনুর রহমান আসিফ অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর খামারিদের প্রশিক্ষণ ও প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের পাশাপাশি দপ্তরের সরকারি সরঞ্জামও বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, কদলপুরের এক ব্যক্তির কাছে প্রতিটি ৩০০ টাকা দরে ৫০টি সরকারি চেয়ার বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়া ১৫ হাজার টাকায় একটি ঘাস কাটার যন্ত্র বিক্রি এবং দুধ দোহনের মেশিন অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে হস্তান্তর করা হয়েছে। এমনকি দপ্তরের এসিও খুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।

অন্যান্য খামারি মনছুরুল হাসান চৌধুরী, সালাউদ্দিন, আলমগীর, রত্না মুহুরী ও মোহাম্মদ আলী আকবরও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেন। তারা দাবি করেন, অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলায় স্থানীয় সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে তাদের নিয়মিত হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগগুলোর বিভাগীয় ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান তারা।

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডা. জয়িতা বসু। হোয়াটসঅ্যাপে তিনি বলেন, তাঁর সব কর্মকাণ্ড প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি কোনো দুর্নীতি বা অনিয়ম করেননি। তাঁর দাবি, কোনো উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে এসি নেই। তাঁর কার্যালয়ে থাকা এসিটি সরকারি নয়; নিজের কেনা পুরোনো এসি, যা বদলির কারণে তিনি সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন। অনৈতিক সুবিধা না পেয়ে কিছু অসাধু ব্যক্তি তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, বিশৃঙ্খলা এড়াতে কর্মকর্তার অনুরোধে কার্যালয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস. এম. রাহাতুল ইসলাম বলেন, অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ