শিশুদের প্রতি সহিংসতা কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বিশেষ করে ধর্ষণ ও হত্যার মতো জঘন্য অপরাধ যখন একটি নিষ্পাপ শিশুর জীবনের ওপর নেমে আসে, তখন তা শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের বিবেককে নাড়িয়ে দেয়। সম্প্রতি শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত সোহেল রানা জাকিরের ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে আদালতপাড়া পর্যন্ত সর্বত্র একটি প্রশ্ন উচ্চারিত হচ্ছে, এই ধরনের অপরাধীদের প্রতি কি কোনো সহানুভূতি দেখানো উচিত?
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত একটি রাষ্ট্রে প্রত্যেক অভিযুক্ত ব্যক্তির আইনি সহায়তা পাওয়ার অধিকার রয়েছে- এটি সত্য। কিন্তু একইসঙ্গে এটাও সত্য, সমাজের নৈতিক অবস্থান ও মানবিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নও এখানে গভীরভাবে জড়িত। শিশু ধর্ষণ ও হত্যার মতো নৃশংস অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পক্ষে দাঁড়ানো নিয়ে তাই আইনজীবী সমাজের ভেতরেও নৈতিক বিতর্ক রয়েছে। কারণ আইন কেবল পেশা নয়; এটি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি মহৎ দায়িত্বও বটে।
শিশু রামিসার ঘটনা আমাদের সমাজের ভয়াবহ বাস্তবতাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। প্রতিদিন কোনো না কোনো শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ কিংবা হত্যার শিকার হচ্ছে। এসব ঘটনায় বিচার বিলম্বিত হলে বা অপরাধীরা আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে গেলে সমাজে ভয়ংকর বার্তা পৌঁছে যায়- অপরাধ করেও পার পাওয়া সম্ভব। এর ফলে অপরাধপ্রবণ মানুষ আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তাই শিশু নির্যাতনের মামলাগুলো দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি এবং দৃশ্যমান শাস্তি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
আইনজীবীদের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। একজন আইনজীবী শুধু তার মক্কেলের প্রতিনিধি নন, তিনি সমাজে ন্যায়বিচারের প্রতীকও। তাই যখন কোনো শিশু ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় কোনো আইনজীবী অভিযুক্তের পক্ষে দাঁড়ান, তখন সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। কারণ মানুষ মনে করে, একজন নিষ্ঠুর অপরাধীকে রক্ষা করার চেষ্টা যেন ভুক্তভোগী পরিবারের কষ্টকে আরও বাড়িয়ে দেয়। যদিও আইনের চোখে সবাই আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাওয়ার অধিকার রাখে, তবুও কিছু কিছু অপরাধ সমাজের বিবেককে এমনভাবে আহত করে, যেখানে নৈতিক অবস্থানটাই বড় হয়ে ওঠে।
তবে এই বিষয়টিকে আবেগের বাইরে গিয়েও দেখতে হবে। আইনের মৌলিক নীতি হলো- কেউ আদালতে দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অপরাধী নয়। সেই হিসেবে আইনজীবীরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু শিশু ধর্ষণ ও হত্যার মতো জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে আইনজীবীদের একটি নৈতিক অবস্থান থাকা প্রয়োজন- যাতে বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত না হয়, আইনের অপব্যবহার না ঘটে এবং অপরাধী কোনোভাবেই শাস্তি এড়িয়ে যেতে না পারে।
আমাদের দেশে বহু ক্ষেত্রে দেখা যায়, অর্থ ও প্রভাবের কারণে ভয়ংকর অপরাধীরাও দীর্ঘদিন বিচার প্রক্রিয়া ঝুলিয়ে রাখে। সাক্ষীকে ভয়ভীতি দেখানো, মামলার তারিখ পেছানো কিংবা আইনি জটিলতা সৃষ্টি করে বিচারের গতি ধীর করে দেওয়া হয়। ফলে ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়। শিশু রামিসার ঘটনাতেও জনগণের আশঙ্কা, যেন কোনো প্রভাবশালী চক্র বা আইনি কৌশলের মাধ্যমে বিচার ব্যাহত না হয়। তাই আইনজীবী সমাজের কাছে মানুষের আবেদন, ন্যায়বিচারের পথে বাধা না হয়ে বরং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সহায়তা করুন।
একটি রাষ্ট্র তখনই সভ্যতার দাবি করতে পারে, যখন সে তার শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়। শিশুদের জন্য নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলতে হলে কেবল আইন কঠোর করলেই হবে না; সামাজিক সচেতনতা, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং নৈতিক শিক্ষাকেও গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি শিশু নির্যাতনের মামলাগুলোতে দ্রুত তদন্ত, নিরপেক্ষ বিচার এবং কার্যকর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
শিশু রামিসার জন্য আজ যে মানুষ কাঁদছে, তারা আসলে দেশের প্রতিটি শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। কারণ একটি শিশুর ওপর এমন নির্মমতা মানে পুরো সমাজের মানবিক পরাজয়। এই পরাজয় থেকে উত্তরণের পথ একটাই- দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার।
আইনজীবী সমাজ দেশের অন্যতম সম্মানিত পেশাজীবী গোষ্ঠী। তাদের ভূমিকা কেবল আদালতের কাঠগড়ায় সীমাবদ্ধ নয়; সমাজে ন্যায়, নীতি ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠাতেও তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাই শিশু ধর্ষণ ও হত্যার মতো জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে আইনজীবীদের প্রতি মানুষের এই আবেগঘন আহ্বানকে অবহেলা করার সুযোগ নেই।
শিশু রামিসার হত্যাকারী যদি সত্যিই অপরাধী হয়ে থাকে, তবে তার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত হোক- এটাই হোক সমাজের সম্মিলিত দাবি। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলে শুধু একটি পরিবারই সান্ত্বনা পাবে না, বরং সমাজে একটি শক্ত বার্তাও যাবে- শিশুর প্রতি সহিংসতার কোনো ক্ষমা নেই।
লেখক: সম্পাদক, বাংলাধারা।
রামিসার কান্না শুনুক রাষ্ট্র!
শিশুদের প্রতি সহিংসতা কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বিশেষ করে ধর্ষণ ও হত্যার মতো জঘন্য অপরাধ যখন একটি নিষ্পাপ শিশুর জীবনের ওপর নেমে আসে, তখন তা শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের বিবেককে নাড়িয়ে দেয়। সম্প্রতি শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত সোহেল রানা জাকিরের ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে আদালতপাড়া পর্যন্ত সর্বত্র একটি প্রশ্ন উচ্চারিত হচ্ছে, এই ধরনের অপরাধীদের প্রতি কি কোনো সহানুভূতি দেখানো উচিত?
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত একটি রাষ্ট্রে প্রত্যেক অভিযুক্ত ব্যক্তির আইনি সহায়তা পাওয়ার অধিকার রয়েছে- এটি সত্য। কিন্তু একইসঙ্গে এটাও সত্য, সমাজের নৈতিক অবস্থান ও মানবিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নও এখানে গভীরভাবে জড়িত। শিশু ধর্ষণ ও হত্যার মতো নৃশংস অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পক্ষে দাঁড়ানো নিয়ে তাই আইনজীবী সমাজের ভেতরেও নৈতিক বিতর্ক রয়েছে। কারণ আইন কেবল পেশা নয়; এটি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি মহৎ দায়িত্বও বটে।
শিশু রামিসার ঘটনা আমাদের সমাজের ভয়াবহ বাস্তবতাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। প্রতিদিন কোনো না কোনো শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ কিংবা হত্যার শিকার হচ্ছে। এসব ঘটনায় বিচার বিলম্বিত হলে বা অপরাধীরা আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে গেলে সমাজে ভয়ংকর বার্তা পৌঁছে যায়- অপরাধ করেও পার পাওয়া সম্ভব। এর ফলে অপরাধপ্রবণ মানুষ আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তাই শিশু নির্যাতনের মামলাগুলো দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি এবং দৃশ্যমান শাস্তি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
আইনজীবীদের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। একজন আইনজীবী শুধু তার মক্কেলের প্রতিনিধি নন, তিনি সমাজে ন্যায়বিচারের প্রতীকও। তাই যখন কোনো শিশু ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় কোনো আইনজীবী অভিযুক্তের পক্ষে দাঁড়ান, তখন সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। কারণ মানুষ মনে করে, একজন নিষ্ঠুর অপরাধীকে রক্ষা করার চেষ্টা যেন ভুক্তভোগী পরিবারের কষ্টকে আরও বাড়িয়ে দেয়। যদিও আইনের চোখে সবাই আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাওয়ার অধিকার রাখে, তবুও কিছু কিছু অপরাধ সমাজের বিবেককে এমনভাবে আহত করে, যেখানে নৈতিক অবস্থানটাই বড় হয়ে ওঠে।
তবে এই বিষয়টিকে আবেগের বাইরে গিয়েও দেখতে হবে। আইনের মৌলিক নীতি হলো- কেউ আদালতে দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অপরাধী নয়। সেই হিসেবে আইনজীবীরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু শিশু ধর্ষণ ও হত্যার মতো জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে আইনজীবীদের একটি নৈতিক অবস্থান থাকা প্রয়োজন- যাতে বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত না হয়, আইনের অপব্যবহার না ঘটে এবং অপরাধী কোনোভাবেই শাস্তি এড়িয়ে যেতে না পারে।
আমাদের দেশে বহু ক্ষেত্রে দেখা যায়, অর্থ ও প্রভাবের কারণে ভয়ংকর অপরাধীরাও দীর্ঘদিন বিচার প্রক্রিয়া ঝুলিয়ে রাখে। সাক্ষীকে ভয়ভীতি দেখানো, মামলার তারিখ পেছানো কিংবা আইনি জটিলতা সৃষ্টি করে বিচারের গতি ধীর করে দেওয়া হয়। ফলে ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়। শিশু রামিসার ঘটনাতেও জনগণের আশঙ্কা, যেন কোনো প্রভাবশালী চক্র বা আইনি কৌশলের মাধ্যমে বিচার ব্যাহত না হয়। তাই আইনজীবী সমাজের কাছে মানুষের আবেদন, ন্যায়বিচারের পথে বাধা না হয়ে বরং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সহায়তা করুন।
একটি রাষ্ট্র তখনই সভ্যতার দাবি করতে পারে, যখন সে তার শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়। শিশুদের জন্য নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলতে হলে কেবল আইন কঠোর করলেই হবে না; সামাজিক সচেতনতা, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং নৈতিক শিক্ষাকেও গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি শিশু নির্যাতনের মামলাগুলোতে দ্রুত তদন্ত, নিরপেক্ষ বিচার এবং কার্যকর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
শিশু রামিসার জন্য আজ যে মানুষ কাঁদছে, তারা আসলে দেশের প্রতিটি শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। কারণ একটি শিশুর ওপর এমন নির্মমতা মানে পুরো সমাজের মানবিক পরাজয়। এই পরাজয় থেকে উত্তরণের পথ একটাই- দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার।
আইনজীবী সমাজ দেশের অন্যতম সম্মানিত পেশাজীবী গোষ্ঠী। তাদের ভূমিকা কেবল আদালতের কাঠগড়ায় সীমাবদ্ধ নয়; সমাজে ন্যায়, নীতি ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠাতেও তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাই শিশু ধর্ষণ ও হত্যার মতো জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে আইনজীবীদের প্রতি মানুষের এই আবেগঘন আহ্বানকে অবহেলা করার সুযোগ নেই।
শিশু রামিসার হত্যাকারী যদি সত্যিই অপরাধী হয়ে থাকে, তবে তার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত হোক- এটাই হোক সমাজের সম্মিলিত দাবি। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলে শুধু একটি পরিবারই সান্ত্বনা পাবে না, বরং সমাজে একটি শক্ত বার্তাও যাবে- শিশুর প্রতি সহিংসতার কোনো ক্ষমা নেই।
লেখক: সম্পাদক, বাংলাধারা।
আরও পড়ুন
সাইবার হামলার শঙ্কা, বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ
বাংলাদেশিদের ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া নিয়ে বড় সুখবর
কওমি রাজনীতিতে নতুন মোড়, ৭ দলের নতুন জোট
সৌদির বিমানবন্দরে হামলায় আহত দুই বাংলাদেশি
এ সম্পর্কিত আরও
বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের ২৯ শতাংশ বেকার
সার্কিট হাউসে ফিরেই সিন্ডিকেট সভা ডাকলেন চুয়েট উপাচার্য
চট্টগ্রামে ফুডপান্ডাকে বয়কট করলেন রেস্তোরাঁ মালিকেরা
মোটরসাইকেলের সামনেও লাগাতে হবে নম্বরপ্লেট, সময় বেঁধে দিল বিআরটিএ
সর্বশেষ
সাইবার হামলার শঙ্কা, বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ
বাংলাদেশিদের ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া নিয়ে বড় সুখবর
কওমি রাজনীতিতে নতুন মোড়, ৭ দলের নতুন জোট
সৌদির বিমানবন্দরে হামলায় আহত দুই বাংলাদেশি
সাজেকে পর্যটক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর ইউপিডিএফ’র গুলিবর্ষণ