২১ অক্টোবর ২০২৬

বাইশারীর বটতলী-ঘোনাপাড়া সড়ক

রাস্তা নয়, যেন চাষের জমি— দুর্ভোগে নাইক্ষ্যংছড়ির ৫ গ্রামের মানুষ

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের উত্তর করলিয়ামুরা বটতলী থেকে ঘোনাপাড়া পর্যন্ত প্রায় একশ বছরের পুরোনো একটি গ্রামীণ সড়ক এখন এলাকাবাসীর দুর্ভোগের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও সড়কটি পাকা তো দূরের কথা, সামান্য ইটের সলিংও হয়নি। ফলে বর্ষা এলেই সড়কটি কাদা, গর্ত আর পাহাড়ি ঢলের পানিতে চাষের জমির মতো রূপ নেয়। এতে পাঁচ গ্রামের হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উত্তর করলিয়ামুরা বটতলী বাজার থেকে ঘোনাপাড়া পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত, হাঁটুসমান কাদা এবং ভাঙাচোরা অংশে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পাহাড়ি ঢলের পানিতে কোথাও সড়কের অংশ ধসে গেছে, কোথাও আবার সৃষ্টি হয়েছে গভীর খাদ। সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো সড়ক কর্দমাক্ত হয়ে পড়ায় হেঁটে চলাও কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় একশ বছরের পুরোনো এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন পাঁচ গ্রামের হাজারো মানুষ চলাচল করেন। শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমিক, নারী, বৃদ্ধ ও রোগীদের জন্য এটি একমাত্র যোগাযোগের পথ। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বর্ষাকালে অনেকটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে পুরো এলাকা।

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ সড়ক পাড়ি দিয়ে বাইশারী উচ্চ বিদ্যালয়, বাইশারী শাহ নুরুদ্দীন দাখিল মাদ্রাসা, বাইশারী মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, দক্ষিণ করলিয়ামুরা ত্বালহা ইবনে ওবায়দুল্লাহ (র.) মাদ্রাসা এবং ঈদগড় উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে হয় তাদের।

শিক্ষার্থী মো. রিমন ও তানিয়া জানান, বর্ষাকালে স্কুলে যেতে গিয়ে প্রায়ই কাদায় পড়ে যেতে হয়। এতে জামাকাপড় ও বই-খাতা নষ্ট হয়। অনেক শিক্ষার্থী এই দুর্ভোগের কারণে নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারে না।

স্থানীয় সমাজপতি মো. শাহ আলম, মো. ছৈয়দ আলম কারবারি ও ঘোনাপাড়ার সমাজপতি মো. আব্দুস ছালাম বলেন, ‌‘বছরের পর বছর ধরে জনপ্রতিনিধিদের কাছে সড়ক সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্ষাকালে অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে।’

করলিয়ামুরার বাসিন্দা ও সাবেক ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ‘এটি শুধু একটি রাস্তা নয়, পাঁচ গ্রামের মানুষের জীবনরেখা। অথচ বছরের পর বছর অবহেলায় পড়ে আছে। দ্রুত সড়কটি পাকা করা না হলে আগামী বর্ষায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।’

স্থানীয় বাসিন্দা মো. রুবেল, নুরুল আলম, ছৈয়দ করিম, বেদার মিয়া, আজগর আলী ও কামাল উদ্দিনসহ অনেকে বলেন, নির্বাচন এলেই উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু ভোট শেষ হলে আর কেউ খোঁজ নেন না। তারা আর আশ্বাস নয়, দ্রুত সড়ক সংস্কারের বাস্তব উদ্যোগ দেখতে চান।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আনোয়ার সাদেক বলেন, ‘একটি এনজিও প্রকল্পের মাধ্যমে সড়কটির উন্নয়নের কথা ছিল। তবে বর্তমানে প্রকল্পটির অগ্রগতির বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।’

বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলম (কোম্পানি) বলেন, ‘বর্ষাকালে গ্রামীণ সড়কে কিছুটা ভোগান্তি হয়। তবুও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।’

স্থানীয়দের দাবি, উত্তর করলিয়ামুরা বটতলী-ঘোনাপাড়া সড়কটি দ্রুত পাকা অথবা অন্তত ইটের সলিং করে চলাচলের উপযোগী করা হোক। তাদের ভাষায়, ‘এটি শুধু একটি রাস্তা নয়, পাঁচ গ্রামের মানুষের বেঁচে থাকার একমাত্র পথ।’

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ