২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় চট্টগ্রামে তোলপাড়

সাজিনাজ হাসপাতালে ‘ভুল চিকিৎসা’য় শিশুর মৃত্যু, মামলার জালে পরিচালকসহ ৮ জন

সন্তানকে সুস্থ করে ঘরে ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন মা। কিন্তু কয়েকদিনের ব্যবধানে সেই শিশুর হাত কালো হয়ে যায়, শরীরে ছড়িয়ে পড়ে সংক্রমণ। দীর্ঘ চিকিৎসা আর জীবনযুদ্ধ শেষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে নবজাতকটি— এমন অভিযোগ এনে সাজিনাজ হাসপাতালের পরিচালকসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন এক মা।

চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার সাজিনাজ হাসপাতালে ‌‌‘ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার’ কারণে এক নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের পরিচালকসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগটি আমলে নিয়ে আদালত ঘটনাটি তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) চট্টগ্রামের ৩য় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলমগীর হোসেনের আদালতে ভুক্তভোগী শিশুর মা আমাতুল মাকনুন এ অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযুক্তরা হলেন— সাজিনাজ হাসপাতালের পরিচালক হাসান মাহমুদ চৌধুরী, সহযোগী কনসালটেন্ট (এনআইসিইউ) ডা. আনোয়ার হোসেন, সিনিয়র কনসালটেন্ট (এনআইসিইউ) ডা. ফয়সাল আহমেদ, পেডিয়াট্রিক সার্জন ডা. আদনান ওয়ালিদ, কার্ডিওথোরাসিক ও ভাস্কুলার সার্জন ডা. মো. মিনহাজুল হাসান, শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. হাবিবুর রহমান, কার্ডিওথোরাসিক ও ভাস্কুলার সার্জন ডা. মো. ফজলে মারুফ এবং ল্যাপারোস্কোপিক সার্জন ডা. মো. তামিম সাফায়েত চৌধুরী। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন চিকিৎসক ও নার্সকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৫ মে সার্জিস্কোপ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন আমাতুল মাকনুন। জন্মের পর নবজাতকের শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাজিনাজ হাসপাতালের এনআইসিইউতে ভর্তি করা হয়।

বাদীর দাবি, চিকিৎসাধীন অবস্থায় নবজাতকের বাম হাতে জটিলতা দেখা দেয়। প্রথমে বিষয়টি গুরুত্ব না দিলেও পরে হাতের তালু ও আঙুলে গ্যাংগ্রিন দেখা দেয় এবং সংক্রমণ শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। পরে শিশুটিকে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতাল এবং পরবর্তীতে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সাজিনাজ হাসপাতালে ভুল স্থানে আইভি ক্যানুলা স্থাপন, চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় অবহেলা এবং পরবর্তী অস্ত্রোপচারে ত্রুটির কারণে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। দীর্ঘ চিকিৎসার পর গত ৪ জুন শিশুটি মারা যায়।

বাদীপক্ষের আইনজীবী শুভাশীষ শর্মা জানান, আদালত অভিযোগটি তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে চিকিৎসাসংক্রান্ত বিষয়গুলো যাচাইয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতামত সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালত সূত্র জানায়, সিআইডি হাসপাতালের চিকিৎসা নথি, রেকর্ড, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বক্তব্য এবং বিশেষজ্ঞ মতামত পর্যালোচনা করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে শিশুর মা আমাতুল মাকনুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্টে অভিযোগ করেন, চিকিৎসকদের অবহেলা ও ভুল সিদ্ধান্তের কারণে তাঁর নবজাতক সন্তানকে হারাতে হয়েছে। তাঁর ওই পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে সাজিনাজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মামলাটি নিয়ে নগরজুড়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

আরও পড়ুন