চট্টগ্রামে পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহের প্রস্তুতি শুরু করেছেন আড়তদারেরা। এবার নগরী ও ১৫ উপজেলা মিলিয়ে প্রায় ৪ লাখ পশুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও লবণের দাম বৃদ্ধি, শ্রমিক ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং পুঁজির সংকটে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
নগরের আতুরার ডিপো এলাকায় গড়ে উঠেছে চট্টগ্রামের বৃহৎ চামড়ার আড়ত। প্রতি বছর কোরবানির দিন থেকে এসব আড়তে কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করা হয়। পরে লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করে ঢাকার ট্যানারিগুলোতে পাঠানো হয়। এছাড়া বিভিন্ন এতিমখানা ও মাদরাসাও নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চামড়া সংরক্ষণ করে পরে বিক্রি করে থাকে।
তবে এবার ঈদের আগে থেকেই বাড়তি খরচ নিয়ে চাপে পড়েছেন আড়তদারেরা। তাদের দাবি, গত বছরের তুলনায় লবণের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। আগে ৭৪ কেজির এক বস্তা লবণ ৬০০ টাকায় পাওয়া গেলেও বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৮২০ টাকায়। এতে প্রতিটি গরুর চামড়া সংরক্ষণে লবণ, শ্রমিক ও পরিবহন খরচ মিলিয়ে গড়ে প্রায় ৫০০ টাকা ব্যয় হচ্ছে।
কাঁচা চামড়ার আড়তদার আবদুল কাদের বলেন, ‘লবণের দাম বেড়েছে, শ্রমিকের মজুরিও আগের তুলনায় বেশি। এর সঙ্গে রয়েছে পরিবহন ব্যয়। অন্যদিকে ট্যানারি মালিকদের কাছে আগের বছরের বিপুল পরিমাণ পাওনা আটকে আছে। ফলে অধিকাংশ আড়তদার এখন পুঁজির সংকটে ভুগছেন।’
বৃহত্তর চট্টগ্রাম চামড়া আড়ৎদার সমিতি সভাপতি মো. মুসলিম উদ্দিন বলেন, ‘২০১৮ সালের পাওনা টাকা এখনও পাইনি। এছাড়া চামড়া সংরক্ষণের খরচ অনেক বেড়ে গেছে। আমরা লোকসানের মুখে পড়ে যাচ্ছি।’
সম্প্রতি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বৃহত্তর চট্টগ্রাম চামড়া আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইউনুছ বলেন, ‘কোরবানির সময় সরকার নির্ধারিত দামে চামড়া কিনলেও পরে ট্যানারি মালিকদের কাছে কম দামে বিক্রি করতে হয়। সময়মতো পাওনা টাকা না পাওয়ায় ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’
তিনি জানান, একসময় চট্টগ্রামে ২০০ থেকে ২৫০ জন আড়তদার সক্রিয় থাকলেও বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ জনে। লোকসান ও মূলধন সংকটের কারণে অনেকেই ব্যবসা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন।
আড়তদার নেতাদের দাবি, ট্যানারি মালিকদের সঙ্গে আস্থার সংকট, বাড়তি খরচ ও দীর্ঘদিনের লোকসানের কারণে চামড়া খাত এখন বড় সংকটের মুখে। তারা কাঁচা চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং বাজারে অনিয়ম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।














