২২ অক্টোবর ২০২৬

মৌখিক পরীক্ষা স্থগিতে প্রশ্নের ঝড়

সিঅ্যান্ডএফ লাইসেন্স পরীক্ষায় ‘অনৈতিক তদবির’, এনবিআরের ভূমিকায় নতুন বিতর্ক

লিখিত পরীক্ষায় পাস করতে পারেননি— এমন অনেককেই উত্তীর্ণ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার চাপ। সেই চাপ উপেক্ষা করে প্রকৃত উত্তীর্ণদের ফল প্রকাশের পরই স্থগিত করা হলো মৌখিক পরীক্ষা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এমন সিদ্ধান্তকে ঘিরে এখন প্রশ্ন উঠেছে— প্রশাসনিক প্রয়োজন, নাকি অনৈতিক তদবির ব্যর্থ হওয়ার প্রতিক্রিয়া? ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) এজেন্ট লাইসেন্সের মৌখিক পরীক্ষা স্থগিতের ঘটনায় এনবিআরের বিরুদ্ধে ফলাফলে হস্তক্ষেপের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

গত বৃহস্পতিবার এনবিআরের কাস্টমস মামলা ও বিরোধ নিষ্পত্তি শাখা থেকে ‘অনিবার্য কারণ’ দেখিয়ে মৌখিক পরীক্ষা স্থগিতের নির্দেশনা জারি করা হয়। তবে ওই ‘অনিবার্য কারণ’ কী, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে হঠাৎ নেওয়া এ সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।

কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা-২০২৬ অনুযায়ী, লাইসেন্স প্রদান, পরীক্ষা গ্রহণ ও চূড়ান্ত ফল প্রকাশের দায়িত্ব কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমির (সিইভিটিএ) ওপর ন্যস্ত। বিধিমালায় পরীক্ষা স্থগিত করার ক্ষমতা এনবিআরকে দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র জানায়, গত ১৬ মে অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন দুই হাজার ৫২১ জন পরীক্ষার্থী। ৮০ নম্বরের পরীক্ষায় পাস নম্বর ছিল ৪০। কঠোর মূল্যায়নের পর মাত্র ২১০ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হন।

পরীক্ষা কমিটির এক সদস্য জানান, পরীক্ষা শেষ হওয়ার রাতেই ছয় সদস্যের স্বাক্ষরে ২১০ জনের চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হয়। কিন্তু ফল প্রকাশের আগেই এনবিআরের এক শীর্ষ কর্মকর্তা ১১০ জনের একটি পৃথক তালিকা দিয়ে তাদের উত্তীর্ণ করার অনুরোধ জানান।

অভিযোগ রয়েছে, ওই তালিকায় এমন অনেক পরীক্ষার্থীর নাম ছিল, যারা লিখিত পরীক্ষায় ১০ নম্বরও পাননি। কমিটি ওই প্রস্তাবে সম্মত না হওয়ায় প্রায় ১৫ দিন ফল প্রকাশ আটকে রাখা হয়। পরে বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে গত ১ জুন প্রকৃত উত্তীর্ণ ২১০ জনের ফল প্রকাশ করা হয়।

বিধিমালা অনুযায়ী, আগামী ২৪ জুনের মধ্যে মৌখিক পরীক্ষা সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ অবস্থায় গত ১৭ জুন ভাইভার সময়সূচি প্রকাশ করে সিইভিটিএ। তবে সময়সূচি প্রকাশের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এনবিআর থেকে তা স্থগিতের নির্দেশ আসে।

এ নিয়ে সিইভিটিএর মহাপরিচালক ম. সফিউজ্জামান বলেন, ‘বিধি অনুযায়ী দুই মাসের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আমরা সেভাবেই এগোচ্ছিলাম। কেন পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে, সে বিষয়ে আমাদের কোনো কারণ জানানো হয়নি।’

এনবিআরের কাস্টমস মামলা ও বিরোধ নিষ্পত্তি বিভাগের দ্বিতীয় সচিব মো. শাহাদাত জামিল বলেন, ‘কোনো সুনির্দিষ্ট কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, তা আমার জানা নেই। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই মৌখিক পরীক্ষা স্থগিতের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

তবে অনৈতিক তদবিরের অভিযোগের এনবিআর’র কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন