২৩ অক্টোবর ২০২৬

স্পটিফাইয়ে দেশের শীর্ষ গায়ক চট্টগ্রামের তানভীর ইভান

ডিজিটাল সংগীতের এই সময়ে জনপ্রিয়তার মাপকাঠি বদলে গেছে অনেকটাই। এখন শিল্পীর সাফল্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখছে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম। আর সেই জায়গায় বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনে নতুন এক আলোচিত নাম চট্টগ্রামের তরুণ গায়ক তানভীর ইভান। স্পটিফাইয়ে দেশের ‘টপ আর্টিস্ট’ হিসেবে ধারাবাহিক স্বীকৃতি পাওয়া এই শিল্পী বর্তমানে বিশ্বের ১৮০টিরও বেশি দেশে প্রায় ২২ লাখ শ্রোতার কাছে পরিচিত এক নাম।

স্পটিফাইয়ের তথ্যমতে, বাংলাদেশের তুলনায় ভারতের শ্রোতারাই বেশি শুনছেন তানভীর ইভানের গান। এছাড়া পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, নেপাল, সংযুক্ত আরব আমিরাত, অস্ট্রেলিয়া ও সিঙ্গাপুরেও রয়েছে তাঁর উল্লেখযোগ্য শ্রোতাগোষ্ঠী। ইউটিউবেও রয়েছে তাঁর শক্ত অবস্থান। প্রায় ৩৩ লাখ সাবস্ক্রাইবারের চ্যানেলে প্রকাশিত তাঁর গান ও বিভিন্ন কনটেন্টের ভিউ কোটি ছাড়িয়েছে বহু আগেই।

চট্টগ্রামের খুলশীতে নিজের বাসায় গড়ে তোলা ছোট্ট স্টুডিও থেকেই গান তৈরি করেন তানভীর ইভান। নিজেই লেখেন, সুর করেন, কণ্ঠ দেন। সেই গানই পৌঁছে যায় বিশ্বের নানা প্রান্তের শ্রোতার কাছে।

তাঁর সংগীতযাত্রার শুরু ২০১৩ সালে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে পড়াকালে নিজের লেখা ও সুরে তৈরি করেন ‘ম্যায়নে রোয়া’ গানটি। পরে ২০১৭ সালে নতুন করে গানটি প্রকাশের পর সেটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। গত বুধবার পর্যন্ত গানটির ভিউ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০ কোটিতে।

২০১৮ সালে স্পটিফাইয়ে যুক্ত হওয়ার পরই আন্তর্জাতিক শ্রোতাদের সাড়া বুঝতে পারেন এই শিল্পী। এরপর একে একে প্রকাশ করেন ‘অভিযোগ’, ‘অভিমান’, ‘ছেড়ে যেয়ো না’, ‘আয়না’, ‘শূন্য’, ‘বৃষ্টি’, ‘সাগর পাড়ে দাঁড়িয়ে’, ‘তুম বিন’ ও ‘আকাশ’-এর মতো জনপ্রিয় গান। এর মধ্যে ‘অভিমান’ গানটির জন্য মেরিল–প্রথম আলো তারকা জরিপে সেরা গায়কের স্বীকৃতিও পান তিনি।

তানভীর ইভানের গানের মূল শক্তি অনুভূতি। তাঁর গানে ভালোবাসা, অপূর্ণতা, একাকিত্ব ও না-পাওয়ার বেদনা এমনভাবে ফুটে ওঠে, যা সহজেই শ্রোতার ব্যক্তিগত অনুভূতির সঙ্গে মিশে যায়। ফলে তাঁর গান হয়ে উঠেছে তরুণ প্রজন্মের আবেগের ভাষা।

অন্যদিকে, বর্তমান সময়ের অতিরিক্ত কনটেন্ট নির্ভর সংগীতজগতের বিপরীতে হাঁটছেন তিনি। ১৩ বছরের সংগীতজীবনে তাঁর গাওয়া গানের সংখ্যা ৫০টিরও কম। কিন্তু প্রতিটি গান প্রকাশের পরই তা নিয়ে তৈরি হয় ব্যাপক আগ্রহ ও আলোচনা।

স্টেজ শোতেও খুব বেশি দেখা যায় না তাঁকে। বছরে হাতে গোনা কয়েকটি অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ঢাকাকেন্দ্রিক সংগীতাঙ্গনের নিয়মিত আড্ডা বা সামাজিক পরিমণ্ডলেও অনুপস্থিত এই শিল্পী। কিছুদিন ঢাকায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত ফিরে গেছেন নিজের শহর চট্টগ্রামেই। সেখান থেকেই এগিয়ে নিচ্ছেন নিজের সংগীতজীবন।

তানভীর ইভানের বাবা ইমতিয়াজ বাবুল বাংলাদেশ রেলওয়ে চট্টগ্রামের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা। মা গৃহিণী এবং দুই বোন চিকিৎসক। নিজে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে পড়াশোনা করলেও স্নাতকোত্তর শেষ হওয়ার আগেই সংগীতকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন তিনি।

ছোটবেলায় বাবাকে মঞ্চে গান গাইতে দেখেই সংগীতের প্রতি আগ্রহ জন্মেছিল তাঁর। পরে পাকিস্তানি শিল্পী আতিফ আসলাম–এর গান থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেকে গড়ে তোলেন। প্রথাগত কোনো সংগীত শিক্ষা না নিয়েও নিজের চেষ্টায় আজ দেশের অন্যতম জনপ্রিয় শিল্পীতে পরিণত হয়েছেন তানভীর ইভান।

চট্টগ্রামে বসেই যে বৈশ্বিক সংগীতজগতে জায়গা করে নেওয়া সম্ভব— তানভীর ইভান যেন সেই বাস্তব উদাহরণ।

আরও পড়ুন