২৫ এপ্রিল ২০২৬

জব্বারের বলীখেলা আজ: লালদীঘিতে ১০৮ বলীর জমজমাট লড়াই

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী আবদুল জব্বারের বলীখেলাকে ঘিরে জমে উঠেছে উৎসবের আমেজ। আজ বিকেল ৩টায় ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে দেশের খ্যাতিমান ১০৮ জন বলী কুস্তির রিংয়ে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে অবতীর্ণ হবেন। কুমিল্লা, কক্সবাজার, সীতাকুণ্ড ও রাঙামাটিসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত প্রতিযোগীদের অংশগ্রহণে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো নগরী। এখান থেকে শেষ পর্যন্ত শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট উঠবে একজনের মাথায়।

এদিকে ১১৭তম এই আসরকে ঘিরে জমে উঠেছে বৈশাখী মেলা। শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া বৈশাখী মেলাকে কেন্দ্র করে লালদীঘি মাঠ ও আশপাশ এলাকায় মানুষের ঢল নেমেছে। নগরজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। মেলায় খাট পালং থেকে ঝাড়ু, থালাবাসন, দা-বঁটি-ছুরি, আয়না সবই আছে। শিশুদের খেলনা, রঙিন পুতুল, দোলনা সব মিলিয়ে এক বিশাল পসরা।

বৈশাখী মেলা ও বলীখেলা দুই বিষয় মিলে নগরজুড়ে উৎসবের আমেজ। শুধু নগর নয় চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা উপজেলা ও এর বাইরে থেকেও দর্শনার্থীরা আসছেন বলীখেলা উপভোগ করতে। এছাড়া নগরে থাকা দেশ বিদেশের বিভিন্ন মহলের মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন শক্তি, কৌশল ও সহনশীলতার এই লড়াই উপভোগের জন্য।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) সরজমিনে দেখা গেছে, লালদীঘি ময়দান প্রস্তুত ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলীখেলার জন্য। ময়দানে তৈরি করা হয়েছে ২০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ২০ ফুট প্রস্থের মূল মঞ্চ। সকাল থেকেই মঞ্চের আশেপাশে দেখা গেছে আগের থেকে বাড়তি ভিড়। বেচা-কেনা ও ব্যস্ততা বেড়েছে বৈশাখী মেলায়ও।

জানা গেছে, গত দুই আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন কুমিল্লার বাঘা শরীফ কুস্তিগীর, যিনি ফাইনালে রাশেদ বলিকে পরাজিত করে শিরোপা জিতেছিলেন। ফলে তিনি টানা দুইবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। এবারের আসরেও শরীফ ও রাশেদ দুই প্রতিদ্বন্দ্বীই অংশ নিচ্ছেন, যা দর্শকদের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এবারের ফাইনালেও এই দুই বলীর মধ্যে লড়াই জমে উঠতে পারে।

মেলার আয়োজক কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক শওকত আনোয়ার বাদল জানান, এবারের বলীখেলায় অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বলীরা চট্টগ্রামে এসে পৌঁছেছেন। কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নোয়াখালী, ফেনী, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, এমনকি উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকেও শক্তিশালী কুস্তিগীররা অংশ নিচ্ছেন।

তারা বলেন, ৮ জন সেরা বলী নিয়ে প্রতিযোগিতার কোয়ার্টার ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। এরপর সেমিফাইনাল এবং ফাইনাল পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। এবার বলীখেলায় দর্শক উপস্থিতিতে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা আয়োজকদের।

এদিকে নিরাপত্তা জোরদারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। লালদীঘি মাঠ ও আশপাশ এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে ওয়াচ টাওয়ার। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা।

কোতোয়ালি থানার ওসি আফতাব উদ্দিন বলেন, বলীখেলা ও মেলাকে কেন্দ্র করে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ইউনিফর্মের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এবারের, বলীখেলার উদ্বোধন করবেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। খেলা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ