চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন সাংবাদিককে হেনস্তা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং তার মোবাইল ফোন জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়— এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং জনগণের তথ্য জানার অধিকারের ওপর এক ভয়ঙ্কর আঘাত।
‘বাংলাধারা’র রিপোর্টার ওমর ফারুক চসিকের রাজস্ব বিভাগের নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অভিযোগের বিষয়ে তথ্য ও বক্তব্য সংগ্রহ করতে গেলে যে অপমানজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে, তা সভ্য সমাজ ও প্রশাসনিক শিষ্টাচারের জন্য চরম লজ্জাজনক। একজন সংবাদকর্মী যখন জনগণের পক্ষে দাঁড়িয়ে সত্য অনুসন্ধানের দায়িত্ব পালন করেন, তখন তার সঙ্গে এমন আচরণ মূলত জনগণের কণ্ঠকেই স্তব্ধ করার অপচেষ্টা।
গণমাধ্যম রাষ্ট্রের আয়না। সাংবাদিকরা সমাজের অন্ধকার, অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার জনগণের সামনে তুলে ধরেন বলেই রাষ্ট্রে জবাবদিহিতা টিকে থাকে। অথচ আজ সেই সাংবাদিকদেরই যদি সরকারি প্রতিষ্ঠানে অপমানিত হতে হয়, মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়, মিথ্যা মামলার ভয় দেখানো হয়— তবে তা কেবল একজন ব্যক্তির প্রতি অন্যায় নয়, পুরো গণমাধ্যম জগতের প্রতি হুমকি।
‘দ্য টুরিস্ট’ ও ‘চাট্রল চিত্র’ পরিবারের পক্ষ থেকে আমরা এ ঘটনায় গভীর দুঃখ, তীব্র ক্ষোভ এবং কঠোর নিন্দা জানাচ্ছি। আমরা মনে করি, একটি সিটি কর্পোরেশন জনগণের সেবক প্রতিষ্ঠান। সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, তথ্য গোপনের প্রবণতা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বরং এটি ইঙ্গিত দেয়— কোনো না কোনো সত্য আড়াল করার চেষ্টা চলছে।
আজ একজন সাংবাদিক হেনস্তার শিকার হয়েছেন, কাল হয়তো অন্য কেউ হবেন। এভাবে যদি তথ্য সংগ্রহের পথ রুদ্ধ করা হয়, তবে দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার দম্ভ আরও ভয়ংকর রূপ নেবে। সাংবাদিকরা কারও শত্রু নন; তারা সমাজের বিবেক। সত্য প্রকাশ করা তাদের দায়িত্ব, আর সেই দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করা মানে জনগণের অধিকারকে অস্বীকার করা।
চট্টগ্রামের সাংবাদিক সমাজ বহু সংগ্রাম, হুমকি ও প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে। এ অঞ্চলের সাহসী সাংবাদিকরা বারবার প্রমাণ করেছেন— ভয় দেখিয়ে সত্যকে থামিয়ে রাখা যায় না। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ এবং তথ্য সংগ্রহে বাধা দেওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে। এটি বন্ধ না হলে গণতন্ত্রের ভিত দুর্বল হয়ে পড়বে।
আমরা অবিলম্বে এ ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করছি। যারা সাংবাদিকের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অপমানজনক আচরণের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি ভুক্তভোগী সাংবাদিক ওমর ফারুকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের অবাধ তথ্য সংগ্রহের পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
আমরা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই— ঘটনাটিকে হালকাভাবে না দেখে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করুন। কারণ একটি সভ্য রাষ্ট্রে সাংবাদিকের কলম থামিয়ে দিয়ে কখনো সত্যকে থামানো যায় না। ইতিহাস সাক্ষী, সত্য শেষ পর্যন্ত উচ্চারিত হয়ই।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করা মানে গণতন্ত্রকে রক্ষা করা। আর সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মানে জনগণের কণ্ঠস্বরকে নিরাপদ রাখা। তাই এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার আজ শুধু একজন সাংবাদিকের দাবি নয়— এটি পুরো সচেতন সমাজের দাবি।
লেখক: লেখক ও সাংবাদিক
তথ্য চাইতে গিয়ে সাংবাদিক হেনস্তা
চসিকে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের অশুভ ছায়া
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন সাংবাদিককে হেনস্তা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং তার মোবাইল ফোন জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়— এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং জনগণের তথ্য জানার অধিকারের ওপর এক ভয়ঙ্কর আঘাত।
‘বাংলাধারা’র রিপোর্টার ওমর ফারুক চসিকের রাজস্ব বিভাগের নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অভিযোগের বিষয়ে তথ্য ও বক্তব্য সংগ্রহ করতে গেলে যে অপমানজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে, তা সভ্য সমাজ ও প্রশাসনিক শিষ্টাচারের জন্য চরম লজ্জাজনক। একজন সংবাদকর্মী যখন জনগণের পক্ষে দাঁড়িয়ে সত্য অনুসন্ধানের দায়িত্ব পালন করেন, তখন তার সঙ্গে এমন আচরণ মূলত জনগণের কণ্ঠকেই স্তব্ধ করার অপচেষ্টা।
গণমাধ্যম রাষ্ট্রের আয়না। সাংবাদিকরা সমাজের অন্ধকার, অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার জনগণের সামনে তুলে ধরেন বলেই রাষ্ট্রে জবাবদিহিতা টিকে থাকে। অথচ আজ সেই সাংবাদিকদেরই যদি সরকারি প্রতিষ্ঠানে অপমানিত হতে হয়, মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়, মিথ্যা মামলার ভয় দেখানো হয়— তবে তা কেবল একজন ব্যক্তির প্রতি অন্যায় নয়, পুরো গণমাধ্যম জগতের প্রতি হুমকি।
‘দ্য টুরিস্ট’ ও ‘চাট্রল চিত্র’ পরিবারের পক্ষ থেকে আমরা এ ঘটনায় গভীর দুঃখ, তীব্র ক্ষোভ এবং কঠোর নিন্দা জানাচ্ছি। আমরা মনে করি, একটি সিটি কর্পোরেশন জনগণের সেবক প্রতিষ্ঠান। সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, তথ্য গোপনের প্রবণতা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বরং এটি ইঙ্গিত দেয়— কোনো না কোনো সত্য আড়াল করার চেষ্টা চলছে।
আজ একজন সাংবাদিক হেনস্তার শিকার হয়েছেন, কাল হয়তো অন্য কেউ হবেন। এভাবে যদি তথ্য সংগ্রহের পথ রুদ্ধ করা হয়, তবে দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার দম্ভ আরও ভয়ংকর রূপ নেবে। সাংবাদিকরা কারও শত্রু নন; তারা সমাজের বিবেক। সত্য প্রকাশ করা তাদের দায়িত্ব, আর সেই দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করা মানে জনগণের অধিকারকে অস্বীকার করা।
চট্টগ্রামের সাংবাদিক সমাজ বহু সংগ্রাম, হুমকি ও প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে। এ অঞ্চলের সাহসী সাংবাদিকরা বারবার প্রমাণ করেছেন— ভয় দেখিয়ে সত্যকে থামিয়ে রাখা যায় না। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ এবং তথ্য সংগ্রহে বাধা দেওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে। এটি বন্ধ না হলে গণতন্ত্রের ভিত দুর্বল হয়ে পড়বে।
আমরা অবিলম্বে এ ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করছি। যারা সাংবাদিকের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অপমানজনক আচরণের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি ভুক্তভোগী সাংবাদিক ওমর ফারুকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের অবাধ তথ্য সংগ্রহের পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
আমরা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই— ঘটনাটিকে হালকাভাবে না দেখে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করুন। কারণ একটি সভ্য রাষ্ট্রে সাংবাদিকের কলম থামিয়ে দিয়ে কখনো সত্যকে থামানো যায় না। ইতিহাস সাক্ষী, সত্য শেষ পর্যন্ত উচ্চারিত হয়ই।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করা মানে গণতন্ত্রকে রক্ষা করা। আর সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মানে জনগণের কণ্ঠস্বরকে নিরাপদ রাখা। তাই এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার আজ শুধু একজন সাংবাদিকের দাবি নয়— এটি পুরো সচেতন সমাজের দাবি।
লেখক: লেখক ও সাংবাদিক
আরও পড়ুন
সাইবার হামলার শঙ্কা, বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ
বাংলাদেশিদের ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া নিয়ে বড় সুখবর
কওমি রাজনীতিতে নতুন মোড়, ৭ দলের নতুন জোট
সৌদির বিমানবন্দরে হামলায় আহত দুই বাংলাদেশি
এ সম্পর্কিত আরও
বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের ২৯ শতাংশ বেকার
সার্কিট হাউসে ফিরেই সিন্ডিকেট সভা ডাকলেন চুয়েট উপাচার্য
চট্টগ্রামে ফুডপান্ডাকে বয়কট করলেন রেস্তোরাঁ মালিকেরা
মোটরসাইকেলের সামনেও লাগাতে হবে নম্বরপ্লেট, সময় বেঁধে দিল বিআরটিএ
সর্বশেষ
সাইবার হামলার শঙ্কা, বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ
বাংলাদেশিদের ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া নিয়ে বড় সুখবর
কওমি রাজনীতিতে নতুন মোড়, ৭ দলের নতুন জোট
সৌদির বিমানবন্দরে হামলায় আহত দুই বাংলাদেশি
সাজেকে পর্যটক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর ইউপিডিএফ’র গুলিবর্ষণ