২৩ অক্টোবর ২০২৬

ডিসি পদ কি মধুর হাঁড়ি !

প্রশ্নটা এখন সরাসরি করা দরকার— জেলা প্রশাসক হতে যদি কোটি কোটি টাকার গোপন চুক্তি, চেক, তদবির আর প্রভাবশালী মহলের দরকার হয়, তাহলে মাঠ প্রশাসনের সততা কোথায় দাঁড়ায়?

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক নিয়োগ কেলেঙ্কারি এখন আলোচনায়। কুমিল্লা জেলায় এমন কী আছে, যার জন্য একজন কর্মকর্তা ডিসি হতে কোটি কোটি টাকার গোপন চুক্তি করবেন?

অভিযোগ উঠেছে, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ও বিসিএস ক্যাডারের উপসচিব জনাব এস, এম, সরওয়ার কামাল কুমিল্লা জেলার জেলা প্রশাসক হিসেবে পদায়ন পেতে চেয়েছিলেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, এই পদায়নের জন্য একটি প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে ৮ কোটি টাকার গোপন আর্থিক চুক্তি ও অঙ্গীকারনামা করা হয়।

আরও ভয়ংকর বিষয় হলো, এই চুক্তিপত্র ও অঙ্গীকারনামা নাকি চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারকে উদ্দেশ্য করে তৈরি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে বিভিন্ন সূত্র থেকে সেই নথি ও প্রমাণাদি সরকারের উচ্চপর্যায়ে পৌঁছায়। সরকারি ভাষায় বলা হয়েছে— বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রমাণাদি পাওয়া গেছে।

আরেক ঘটনায় নওগাঁর ডিসি পদ পাওয়ার আশায় ৩ কোটি টাকার চেক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।

ডিসি তো জেলার সরকারের মুখ। আইন, ভূমি, প্রশাসন, উন্নয়ন— সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু। তাহলে প্রশ্ন একটাই: ডিসি পদ কি জনসেবার দায়িত্ব, নাকি দুর্নীতির বিনিয়োগ প্রকল্প?

একজন মানুষ যদি একটি প্রশাসনিক পদ পেতে ৮ কোটি টাকা পর্যন্ত ‘বিনিয়োগ’ করেন, তাহলে সাধারণ মানুষ কি ধরে নেবে না— পদে বসার পর সেই টাকা তিনি সুদে-আসলে তুলবেন?

প্রশ্নগুলো খুবই ভয়ংকর। কারণ একজন জেলা প্রশাসকের হাতে থাকে— ভূমি প্রশাসন, উন্নয়ন প্রকল্প, ইজারা, সরকারি বরাদ্দ, অধিগ্রহণ, টেন্ডার প্রভাব, প্রশাসনিক ক্ষমতা, এমনকি স্থানীয় প্রভাব বলয়ের কেন্দ্রবিন্দু। তাহলে জনগণ কি ভাববে না, এই ধরনের পদায়ন বাণিজ্য শেষ পর্যন্ত দুর্নীতিকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক করে তোলে?

রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাঠ প্রশাসনের পদ যদি টাকার খেলায় পরিণত হয়, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে সাধারণ মানুষ, আইন, প্রশাসন এবং পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থা। ডিসি পদ কি জনসেবার দায়িত্ব, নাকি ‘কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রকল্প’— এখন মানুষ এই প্রশ্নই করছে।

লেখক: সাংবাদিক ও কলাম লেখক

আরও পড়ুন