চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় ঈদুল আজহা উপলক্ষে পশুর হাট পরিচালনা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সাপ্তাহিক দুই দিনের জন্য ইজারা দেওয়া ফকিরনীর হাটকে ঈদ উপলক্ষে টানা পাঁচ দিন অস্থায়ীভাবে পশুর হাট বসানোর অনুমতি দেওয়ায় অন্যান্য বাজারের ইজারাদারদের মধ্যে ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয়দের একটি অংশ জনভোগান্তির শঙ্কাও প্রকাশ করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কর্ণফুলী উপজেলার ফকিরনীর হাট পশুর বাজার সাপ্তাহিক দুই দিনের জন্য ইজারা দেওয়া হলেও ঈদুল আজহা উপলক্ষে অতিরিক্ত পাঁচ দিন অস্থায়ী হাট পরিচালনার অনুমোদন দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
গত মঙ্গলবার (১৯ মে) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসানের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ অনুমতি দেওয়া হয়।
চিঠিতে বলা হয়, ফকিরনীর হাটসংলগ্ন দুটি ব্যক্তিমালিকানাধীন খালি জায়গায় অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাট বসানোর আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে। “হাট ও বাজার (স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা) বিধিমালা, ২০২৫”-এর ১৫(১) ধারা অনুযায়ী আগামী ২৩ মে থেকে ২৭ মে পর্যন্ত, অর্থাৎ ঈদের আগের পাঁচ দিন হাট পরিচালনা করা যাবে।
তবে এ সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন উপজেলার অন্যান্য পশুর হাটের ইজারাদাররা। তাদের দাবি, নির্ধারিত সময়ের বাইরে অতিরিক্ত দিন হাট পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হলে বাজার ব্যবস্থাপনায় প্রতিযোগিতামূলক ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে এবং বড় অঙ্কের বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়বে।
স্থানীয় বাসিন্দা তরিকুল ইসলাম, কামাল হোসেন ও আবদুল করিম বলেন, দীর্ঘ সময় পশুর হাট বসলে সড়কে যানজট ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়তে পারে। তারা হাট ব্যবস্থাপনায় আগাম পরিকল্পনা ও সুনির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মইজ্জ্যারটেক পশুর বাজারের ইজারাদার জসিম উদ্দিন জুয়েল বলেন, তাদের বাজার বড় অঙ্কের ইজারায় পরিচালিত হচ্ছে। একই এলাকায় অতিরিক্ত সময় অন্য বাজার পরিচালিত হলে আর্থিক প্রভাব পড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন।
অন্যদিকে, ফকিরনীর হাট সংশ্লিষ্ট ইমরান সেলিম বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে পূর্বনির্ধারিত স্থান না পাওয়ায় তারা ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি ভাড়া নিয়ে হাট পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছেন। তার দাবি, নির্ধারিত সময়ের বাইরে সুযোগ না পেলে আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি থাকত।
এ বিষয়ে কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সজীব কান্তি রুদ্র বলেন, জেলা প্রশাসনের অনুমতি অনুযায়ী হাট পরিচালিত হবে। তবে অন্য বাজারের ইজারাদারদের উদ্বেগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আলোচনা করা হবে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর মইজ্জ্যারটেক পশুর বাজার প্রায় ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকায় এবং ফকিরনীর হাট প্রায় ৮১ লাখ ৫০ হাজার টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উপজেলার অন্যান্য বাজারও নির্ধারিত শর্তে ইজারা পেয়েছে।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান এর মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করেও কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।














