২৩ অক্টোবর ২০২৬

‘বাংলাধারা’য় সংবাদের পর বিআরটিএ’তে অভিযান, দুই দালাল কারাগারে

চট্টগ্রাম বিআরটিএ কার্যালয়ে দালাল সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য ও সেবাপ্রার্থীদের হয়রানির চিত্র তুলে ধরে বাংলাধারা নিউজ পোর্টালে সংবাদ প্রকাশের পর অভিযান পরিচালনা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে দুই দালালকে আটক করে ২১ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বিভিন্ন যানবাহনের কাগজপত্রে অনিয়ম পাওয়ায় জরিমানাও আদায় করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) বেলা ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের অধীন বিআরটিএ চট্টগ্রাম মেট্রো সার্কেল-২ ও জেলা সার্কেলে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত-১২ এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা মুস্তফার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে দালাল চক্রের দুই সদস্যকে আটক করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আটক মো. সেলিম (৫৬) ও মো. সাহাবুদ্দিনকে (৬০) ২১ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত সেলিমের বাড়ি চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার খন্দকীয়া এলাকায় এবং সাহাবুদ্দিনের বাড়ি কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার গোতারু গ্রামে।

এর আগে ‘বাংলাধারা’য় অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ‘চট্টগ্রামের বিআরটিএ কার্যালায় ‘দালালদের দখলে’’ প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, চট্টগ্রামের বিআরটিএ কার্যালয় দালালদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। ড্রাইভিং লাইসেন্স, নম্বর প্লেট, নাম পরিবর্তনসহ বিভিন্ন সেবায় সাধারণ মানুষকে বাড়তি টাকা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে দালাল সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকার অভিযোগও উঠে আসে।

সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগ ছিল, সরকার নির্ধারিত ফি দিয়ে কাজ করতে গেলে দিনের পর দিন ঘুরতে হয়। অথচ দালালের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা দিলে অল্প সময়েই কাজ সম্পন্ন হয়ে যায়।

এদিকে একইদিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত নগরীর বায়েজীদ বোস্তামী এলাকায় পৃথক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। বিভিন্ন যানবাহনের কাগজপত্রে অনিয়ম পাওয়ায় পাঁচটি মামলায় মোট ১৭ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা মুস্তফা জানান, বিআরটিএতে দালাল চক্রের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।

আরও পড়ুন