২৩ অক্টোবর ২০২৬

ভুয়া সনদে চাকরি, ৪৭১ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় শুদ্ধি অভিযান জোরদার করতে সনদ জাল বা ভুয়া বলে চিহ্নিত হওয়া ৪৭১ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। ইতোমধ্যে প্রথম ধাপে ৬৩ জন শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশে তাঁদের বিরুদ্ধে কেন এমপিও (মাসিক বেতন-ভাতা বাবদ সরকারি অনুদান) বাতিল বা স্থগিত করা হবে না এবং কেন নিয়োগ বাতিলসহ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—তার লিখিত জবাব ১০ কর্মদিবসের মধ্যে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২৩ মে) মাউশি পৃথকভাবে এসব কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) দীর্ঘ অনুসন্ধান ও নিরীক্ষার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সনদ জাল, ভুয়া কিংবা সন্দেহজনক হিসেবে শনাক্ত করে। পরে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশসহ একটি বিস্তারিত তালিকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

ডিআইএর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ) জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরকে নির্দেশনা দেয়। এরপরই অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করে মাউশি।

মাউশি সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ৪৭১ শিক্ষকের মধ্যে মাধ্যমিক পর্যায়ের রয়েছেন ৪০২ জন, কলেজ পর্যায়ের ৬৪ জন এবং কারিগরি পর্যায়ের ৫ জন শিক্ষক। পর্যায়ক্রমে সবাইকে নোটিশের আওতায় আনা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভুয়া সনদ ব্যবহার করে শিক্ষকতা পেশায় প্রবেশের ঘটনা শুধু শিক্ষা ব্যবস্থার জন্যই হুমকি নয়, এটি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের সঙ্গেও প্রতারণার শামিল। দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এবার বড় পরিসরে তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অনেকে।

তবে ডিআইএর কার্যক্রম নিয়েও অতীতে বিভিন্ন সময় প্রশ্ন উঠেছে। সংস্থাটির বিরুদ্ধে হয়রানি, অনিয়ম এবং স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগও রয়েছে। এরপরও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, জাল সনদধারীদের শনাক্ত করা এবং সরকারি অর্থের অপচয় রোধে সংস্থাটির তদন্ত কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষকদের সনদ যাচাই প্রক্রিয়া আরও আধুনিক ও ডিজিটাল করা গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের জালিয়াতি অনেকাংশে কমে আসবে। একই সঙ্গে শিক্ষক নিয়োগের সময় কঠোর যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করারও তাগিদ দিয়েছেন তারা।

এদিকে মাউশির এ উদ্যোগে শিক্ষা অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষে আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

আরও পড়ুন