২৩ অক্টোবর ২০২৬

বহির্নোঙর থেকেই ফেরত যাচ্ছে ৬০ কোটি টাকার জাহাজ

মার্কিন

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জাহাজভাঙা শিল্পের জন্য আমদানি করা প্রায় ৬০ কোটি টাকা মূল্যের একটি স্ক্র্যাপ জাহাজ বহির্নোঙর থেকেই ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইরানি পণ্য পরিবহনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত হওয়ায় জাহাজটি আর দেশের কোনো শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে বিচিং করা হচ্ছে না।

পালাউ পতাকাবাহী ট্যাংকার ‘মেমেই’ গত ২৬ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরের চার্লি অ্যাংকরেজে পৌঁছায়। ১৯৯৭ সালে নির্মিত জাহাজটির দৈর্ঘ্য ১৮০ মিটার, প্রস্থ ৩২ দশমিক ২ মিটার এবং ধারণক্ষমতা ৪৪ হাজার ৮০০ টন। সীতাকুণ্ডভিত্তিক এসএন করপোরেশন জাহাজটি স্ক্র্যাপ হিসেবে কেনার জন্য ঋণপত্র (এলসি) খুলেছিল।

তবে জাহাজটি বাংলাদেশে পৌঁছানোর দুই দিন পর, ২৮ মে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এবং অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি) জাহাজটিকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। বিষয়টি জানার পরই জাহাজটি গ্রহণের প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয় এবং ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এসএন করপোরেশনের ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘জাহাজটি তাদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর হওয়ার আগেই নিষেধাজ্ঞার তথ্য জানা যায়। ফলে জাহাজের মূল্য পরিশোধ করা হয়নি। তাদের আর্থিক ক্ষতি বলতে মূলত এলসি খোলার কমিশন বাবদ ব্যয়টুকুই।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্ক্র্যাপ জাহাজ কেনাবেচার প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙর পর্যন্ত জাহাজ আনা এবং ক্রেতার কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব বিক্রেতার। জাহাজ দেশে আসার পর বিভিন্ন সরকারি সংস্থার পরিদর্শন ও অনাপত্তিপত্র (এনওসি) পাওয়ার পর সেটিকে শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে নেওয়া হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে এনওসি প্রক্রিয়া শুরুর আগেই নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি সামনে আসে।’

জাহাজটির স্থানীয় এজেন্ট সোলার শিপিং লাইনসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তৌফিকুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও কাস্টমসের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র নিয়ে জাহাজটিকে মূল মালিকের কাছে ফেরত পাঠানোর কাজ চলছে। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। জাহাজটি পরবর্তীতে কোথায় যাবে, সে সিদ্ধান্ত নেবেন মালিকপক্ষ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাধারণত মেয়াদোত্তীর্ণ জাহাজগুলো শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে বিচিংয়ের মাধ্যমে ভেঙে ফেলা হয়। এরপর জাহাজ থেকে বিভিন্ন ধাতব উপকরণ, যন্ত্রাংশ ও ব্যবহারযোগ্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। অবশিষ্ট অংশ কেটে ইস্পাত শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তবে ‘মেমেই’-এর ক্ষেত্রে সেই প্রক্রিয়া আর বাস্তবায়িত হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে জাহাজটি চট্টগ্রামের বহির্নোঙর থেকেই ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছে।

আরও পড়ুন