২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রামে পিবিআইয়ের তদন্তে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

সম্পত্তির লোভে ‘হানিট্র্যাপে’ ফেলে বাবাকে শ্বাসরোধে হত্যা

চট্টগ্রামে সম্পত্তির বিরোধকে কেন্দ্র করে বাবাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অপহরণ ও শ্বাসরোধে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় প্রায় দুই বছর পর মূল রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রাম মেট্রো।

এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বেলাল হোসেন (৩৫) ও তার সহযোগী আব্দুল জলিলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত এক নারী সহযোগীকেও শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংস্থাটি।

পিবিআই সূত্র জানায়, নিহত মীর মজিবুর রহমান খান (৬০) পেশায় বাবুর্চি ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পূর্ব চাম্বল এলাকায়। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জমি বিক্রি ও সম্পত্তি নিয়ে বড় ছেলে বেলাল হোসেনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল তার।

তদন্তে উঠে এসেছে, বাবাকে ফাঁদে ফেলতে আগে থেকেই সুপরিকল্পিত ছক কষেন বেলাল। নিজের পরিচিত এক নারীকে দিয়ে মজিবুর রহমানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরির অভিনয় করানো হয়। সেই সম্পর্কের সূত্র ধরে ২০২৪ সালের ৭ জুন নগরের বাকলিয়া এলাকার একটি বাসায় ডেকে নেওয়া হয় তাকে।

পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো ইউনিটের পুলিশ সুপার এস এম রফিকুল ইসলাম জানান, ওই বাসায় আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন বেলালের আত্মীয় আব্দুল জলিল। সেখানে শরবতের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে মজিবুর রহমানকে খাওয়ানো হয়। অচেতন হওয়ার পর তাকে নিয়ে নগরের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা শেষে সন্ধ্যায় হালিশহর সিডিএ আউটার রিং রোড সংলগ্ন নির্জন স্থানে নেওয়া হয়।

পরে গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ পাশের ঝোপে ফেলে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা।
এ ঘটনায় প্রথমে রহস্য তৈরি হয়, কারণ মজিবুর রহমান নিখোঁজ হওয়ার পর তার মেয়ে সালমা খানম কোনো খোঁজ না পেয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে আদালতে অপহরণ মামলা দায়ের করলে তদন্তভার পায় পিবিআই।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আজমগীর জানান, গত ১৩ জুন কর্ণফুলীর মইজ্জ্যারটেক এলাকা থেকে বেলালকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বাবাকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে ১৪ জুন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দেন।

বেলালের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জোরারগঞ্জের ঘেড়ামারা এলাকা থেকে আব্দুল জলিলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পিবিআই জানায়, হত্যার দুই দিন পর ২০২৪ সালের ৯ জুন হালিশহর থানা পুলিশ অজ্ঞাত পরিচয়ে একটি মরদেহ উদ্ধার করেছিল। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় ময়নাতদন্ত শেষে লাশ দাফন করা হয় এবং মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদনও দেওয়া হয়েছিল।

তবে নতুন তদন্তে আসামিদের দেওয়া তথ্য ও আগের আলামতের মিল খুঁজে পেয়ে পিবিআই নিশ্চিত হয়েছে—অজ্ঞাত সেই মরদেহটিই ছিল মজিবুর রহমানের।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সম্পত্তির লোভে নিজের বাবাকে হত্যার এই ঘটনা চট্টগ্রামে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। হত্যায় জড়িত নারী সহযোগীকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

আরও পড়ুন