কক্সবাজারের টেকনাফে বঙ্গোপসাগর ও নাফ নদীর মোহনায় মাছ ধরার সময় দুটি ইঞ্জিনচালিত নৌকাসহ সাত জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। সোমবার সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে শাহপরীর দ্বীপ সংলগ্ন সমুদ্রসীমায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী।
ধরে নিয়ে যাওয়া জেলেরা হলেন- ফয়সাল (২৬), জলিল (১৬), আজম (১২), হেলাল (১১), লালয়া (১৯), সৈয়দ আলম (২১) ও ফয়সাল (২২)। তারা শাহপরীর দ্বীপ এলাকার বাসিন্দা। এ ছাড়া মাছ ধরার নৌকা দুটির মালিক শাহপরীর দ্বীপের কোনাপাড়া এলাকার মো. রাজ্জাক (৪০)।
ইউএনও অনীক চৌধুরী বলেন, ‘কোস্ট গার্ডের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে জেলেদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। সাত জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার খবর প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। জেলেরা ভুলবশত মিয়ানমারের জলসীমায় প্রবেশ করায় তাদের আটক করা হয়। তাদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে বিজিবি, কোস্ট গার্ড ও প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে।’
শাহপরীর দ্বীপ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবদুল মান্নান বলেন, বিজিবির অধীনে থাকা শাহপরীর দ্বীপ বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকা থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনা মিয়ানমারের নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকার কাছে জেলেদের আটক করা হয়।
শাহ পরীর দ্বীপ বোট মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুল গফুর বলেন, শাহপরীর দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব পাড়া ঘাট থেকে দুটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে মাছ শিকারে যান জেলেরা। মাছ ধরে ফেরার পথে তারা অনিচ্ছাকৃতভাবে মিয়ানমারের জলসীমায় প্রবেশ করলে তাদের আটক করে নিয়ে যান আরাকান আর্মির সদস্যরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্তবর্তী নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগর এলাকায় মাছ ধরতে গিয়ে বাংলাদেশি জেলেরা প্রায়ই বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর হয়রানি ও আটকের শিকার হন। তারা আটক জেলেদের দ্রুত ও নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন।














