চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেছেন, চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী কালুরঘাট-চাক্তাই সংযোগ সড়ক প্রকল্পের কাজ আগামী ডিসেম্বরের আগেই শেষ করা হবে। একই মাসে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্প তিনটির উদ্বোধন করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বুধবার (১৭ জুন) সকালে সিডিএর সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সকাল ৯টায় প্রথম কর্মদিবসে দায়িত্ব গ্রহণ করে দপ্তরে যোগ দেন তিনি। এ সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
সভায় চেয়ারম্যান বলেন, ‘চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রামের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। সব প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে এই বন্দরনগরীকে আরও পরিকল্পিত ও নান্দনিক শহর হিসেবে গড়ে তোলাই আমার লক্ষ্য। এ জন্য সবার আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।’
তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামের অধিকাংশ সিডিএ কর্মকর্তার নিজ জেলা চট্টগ্রাম। তাই এই নগরের প্রতি আমাদের সবার দায়বদ্ধতা রয়েছে। সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি শহরের উন্নয়নে ব্যক্তিগত দায়বোধ নিয়েও কাজ করতে হবে।’
চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসন ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প দ্রুত শেষ করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘আমি নিজে দুর্নীতির সঙ্গে জড়াব না, কাউকেও জড়াতে দেব না। প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে চাই। উন্নয়নকাজে যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, সেগুলো দূর করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।’
অবৈধ দখলের বিষয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, ‘আমার দলের যত বড় নেতাই হোক, সরকারি জমি বা খাল-নালা দখল করলে ছাড় দেওয়া হবে না। অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
নগরের পরিকল্পিত উন্নয়নে নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভবন নির্মাণে অবশ্যই সিডিএ অনুমোদিত নকশা অনুসরণ করতে হবে। একটি ভবন নিয়ম লঙ্ঘন করলে পুরো এলাকার সৌন্দর্য ও পরিকল্পনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
গণমাধ্যমের সঙ্গে স্বচ্ছ সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে চেয়ারম্যান বলেন, সংস্থার কার্যক্রম সম্পর্কে সঠিক তথ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে জনমনে কোনো ভুল ধারণা সৃষ্টি না হয়।
সভায় সিডিএ কর্মকর্তারা নতুন চেয়ারম্যানকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বলেন, সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তারা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করবেন। টিমওয়ার্কের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে আরও আধুনিক, পরিকল্পিত ও নান্দনিক নগর হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তারা।
সভায় উপস্থিত ছিলেন সিডিএর সার্বক্ষণিক সদস্য মোহাম্মদ নূরুল্লাহ নুরী, প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল, সচিব মোহাম্মদ মাহবুবুল করিমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এর আগে দায়িত্ব গ্রহণের দিন সকালে প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন শাহ সুফি হযরত আমানত শাহ (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন।













