২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অনুসারীদের বিবৃতি

‘সদ্ধর্ম প্রচারক’ পঞঞাদীপ মহাথেরের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদ

বাংলাদেশের প্রখ্যাত বিদর্শনাচার্য ও অভিধর্মকথিক পঞঞাদীপ মহাথেরের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ এনে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন তাঁর অনুসারীরা। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত সাইবার আইনের আওতায় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে অনুসারীরা বলেন, শ্রদ্ধেয় পঞঞাদীপ মহাথের দীর্ঘদিন ধরে বুদ্ধ নির্দেশিত পথে সদ্ধর্ম প্রচার, বিদর্শন ভাবনা শিক্ষা এবং সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত রয়েছেন। তাঁর ধর্মদেশনা ও ধ্যানচর্চার মাধ্যমে বাংলাদেশসহ ভারত, মায়ানমার, জাপান, ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের বহু মানুষ উপকৃত হয়েছেন বলে তারা দাবি করেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ব্যক্তি স্বার্থ, পদ-পদবি কিংবা গোষ্ঠীকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ডের বাইরে থেকে পঞঞাদীপ মহাথের সদ্ধর্ম প্রচারে আত্মনিয়োগ করেছেন। উপাসকদের দানের অর্থ বিভিন্ন অনাথ আশ্রমের শিক্ষার্থী এবং মায়ানমারের একটি আশ্রমে সহায়তার জন্য ব্যয় করা হলেও তিনি এসব কার্যক্রম প্রচার করেন না বলে অনুসারীরা উল্লেখ করেন।

বর্তমানে তিনি তিন পার্বত্য জেলার ভিক্ষুসংঘের ঐক্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গঠিত ‘সুপ্রিম সংঘ কাউন্সিল’-এর মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর শিষ্যদের মধ্যে কয়েকজন মায়ানমারের থেরবাদা বৌদ্ধ আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা নিয়ে দেশে ধর্মপ্রচারে নিয়োজিত রয়েছেন বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

অনুসারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সমতল ও পার্বত্য অঞ্চলের বৌদ্ধ সমাজে ‘ভাবনা ভান্তে’ নামে পরিচিত পঞঞাদীপ মহাথের দীর্ঘ ১৬ বছর মায়ানমারের বিভিন্ন ভাবনা কেন্দ্র ও পরিয়ত্তি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন ও অনুশীলনের মাধ্যমে অভিধর্ম ও বিদর্শন ভাবনায় দক্ষতা অর্জন করেন। দেশে ফিরে তিনি বান্দরবানের বাঘমারা অপ্রমাদ ভাবনা কেন্দ্র, রাজস্থলীর বিজ্জাচরণ ভাবনা কেন্দ্র এবং রাউজানের মধ্যম বিনাজুরীর নীরব ভূমি অপ্রমাদ ভাবনা কেন্দ্রসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সদ্ধর্ম প্রচার করে আসছেন।

বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘সম্যক দৃষ্টি পরিষদ’ নামের একটি পেজ থেকে পঞঞাদীপ মহাথেরের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে কুৎসা ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আরিয়া ওয়াংসা নামে এক ভিক্ষু জড়িত রয়েছেন।

তারা এ ধরনের প্রচারণার নিন্দা জানিয়ে বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভা, বাংলাদেশ ভিক্ষু মহাসভা, সংঘরাজ নিকায়, সংঘনায়ক নিকায় এবং বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘসহ সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পাশাপাশি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে পঞঞাদীপ মহাথেরের অনুসারীরা আশা প্রকাশ করেন, তিনি ভবিষ্যতেও সদ্ধর্ম প্রচার, বিদর্শন ভাবনার প্রসার এবং মানুষের কল্যাণে তাঁর কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেন।

আরও পড়ুন