চট্টগ্রামে দুই দিনে সাতটি থানার ওসি পদে রদবদল করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ‘ইয়াবাকাণ্ডে’ নাম আসা কোতোয়ালী থানার ওসি আফতাব উদ্দিনও রয়েছেন। চট্টগ্রাম নগর পুলিশ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী মঙ্গল ও বুধবার এসব আদেশ জারি করেন।
এতে ডবলমুরিং, কর্ণফুলী, খুলশী, চকবাজার, চান্দগাঁও, কোতোয়ালী ও সদরঘাট থানার ওসি রদবদল হয়েছে। মঙ্গলবারের আদেশে কর্ণফুলী থানার ওসি শাহীনুর আলমকে ডবলমুরিং থানায়, নগর বিশেষ শাখার পরিদর্শক কাজী মাসুদ ইবনে আনোয়ারকে কর্ণফুলী থানায়, ডবলমুরিং থানার ওসি জামাল উদ্দিন খানকে নগর বিশেষ শাখায়, শনিবার বাকলিয়া থেকে খুলশী থানায় পদায়ন করা মো. সোলায়মানকে নগর বিশেষ শাখায়, একই শাখার পরিদর্শক মোজাম্মেল হককে খুলশী থানায়, চকবাজার থানার ওসি বাবুল আজাদকে গোয়েন্দা পুলিশের দক্ষিণ বিভাগে, চান্দগাঁও থানার ওসি নূর হোসেন মামুনকে চকবাজার থানায় এবং গোয়েন্দা পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের পরিদর্শক জসিম উদ্দিনকে চান্দগাঁও থানায় বদলি করা হয়।
এর মধ্যে কাজী মাসুদ ইবনে আনোয়ারের বদলি আদেশ বুধবার বাতিল করে গোয়েন্দা পুলিশে পদায়ন করা হয়েছে। একই আদেশে ইয়াবাকাণ্ডে নাম আসা কোতোয়ালী থানার ওসি আফতাব উদ্দিনকে সরিয়ে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
এ আদেশে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত আবু জায়েদ মো. নাজমুন নূরকে কোতোয়ালী থানায়, এস্টেট ও বিল্ডিং শাখার মুহাম্মদ শরীফকে সদরঘাট থানায়, সদরঘাট থানার ওসি কাজী মো. মাহফুজ হাসান সিদ্দিকীকে গোয়েন্দা পুলিশে, কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পরিদর্শক ইখতিয়ার উদ্দিনকে কর্ণফুলী থানায় পদায়ন করা হয়েছে।
নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন) ওয়াহিদুল হক বলেন, ‘নিয়মিত বদলির অংশ হিসেবে ওসি পদে রদবদল করা হয়েছে। আবার কয়েক জনের বিরুদ্ধে অভিযোগও উঠেছে।’
গত ডিসেম্বরে দুইটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের বলা হয়, বাকলিয়া থানার কর্ণফুলী তৃতীয় সেতু এলাকার চেকপোস্টে ৮ ডিসেম্বর রাত ২টার দিকে ঢাকাগামী একটি বাসে তল্লাশি চালানো হয়। এতে ইমতিয়াজ হোসেন নামের এক পুলিশ সদস্যকে ইয়াবাসহ আটকের পরও ছেড়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি তার কাছ থেকে জব্দ করা ১ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবা গায়েবের অভিযোগ করা হয়।
প্রকাশিত প্রতিবেদন দুটিতে ইমতিয়াজ হোসেনের পরিচয় দেওয়া হয় কক্সবাজার জেলা আদালতের এক বিচারকের গানম্যান হিসেবে। এ সংবাদ দেখে গতবছরের ২৩ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের মহানগর হাকিম এস এম আলাউদ্দিন মাহমুদ স্বপ্রণোদিত হয়ে এ বিষয়ে মামলা করেন। তৎকালীন বাকলিয়া থানার ওসি আফতাব উদ্দিনের নির্দেশে ইয়াবা আত্মসাৎ করে বহনকারীকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে তখন অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় সিএমপি’র পক্ষ থেকে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সে প্রতিবেদনের সুপারিশে ৫ জানুয়ারি অভিযানে থাকা ও থানায় দায়িত্বরত আট পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল এবং পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর আহমেদের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সদর দপ্তরে জানানো হয়। তবে ওসি আফতাবের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে পরবর্তীতে তাকে কোতোয়ালী থানায় বদলি করা হয়। এদিকে গত ৯ জুন এ ঘটনায় পরিদর্শক তানভীরকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, অভ্যন্তরীণ তদন্তে ওসি আফতাব উদ্দিনের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সদর দপ্তরে সুপারিশ করা হয়েছিল নগর পুলিশের পক্ষ থেকে থেকে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে ওসি আফতাবকে কোতোয়ালী থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
আফতাবের স্থলাভিষিক্ত হলেন ‘আলোচিত’ ওসি নাজমুন নূর
বুধবার জারি করা আদেশে কোতোয়ালীর ওসি আফতাব উদ্দিনের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে আবু জায়েদ মো. নাজমুন নূরকে। গত বছরের ১ জুলাই রাতে পটিয়া শহীদ মিনার এলাকা থেকে রাঙামাটির একজন ছাত্রলীগ নেতাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা। থানায় গিয়ে ওই নেতাকে গ্রেপ্তার দেখাতে বলেন তারা।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মীরা থানা চত্বরে ওই নেতাকে ‘মারধরের চেষ্টা করলে’ পুলিশ বাধা দেয়। এসময় উত্তেজনার মধ্যে পুলিশের লাঠিচার্জে বেশ কয়েকজন আহত হয়। তখন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা তার অপসারণের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে এবং তাকে প্রত্যাহার করে চট্টগ্রাম রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়েছিল।














