চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে এক গৃহবধূর মরদেহ রেখে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। নিহত গৃহবধূর নাম খাদিজা আক্তার কাশফি (১৮)। পরিবারের দাবি, ‘এটি আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যা’।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। নিহত কাশফি উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের মালঘর বাজার এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবদুল জলিলের মেয়ে। তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রাত সাড়ে ৮টার দিকে কাশফিকে মৃত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন তার স্বামী মোহাম্মদ মারুফ (১৯)। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করার পরপরই মরদেহ জরুরি বিভাগে রেখে কৌশলে হাসপাতাল ত্যাগ করেন তিনি।
আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উপমা চৌধুরী বলেন, ‘ওই নারীকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার গলায় একটি মোটা দাগ দেখা গেছে। মৃত ঘোষণার পর স্বামী দ্রুত হাসপাতাল থেকে চলে যান।’
মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন কাশফির স্বজনরা। এ সময় শোকাহত পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে হাসপাতাল এলাকায় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
নিহতের বড় বোন ঝুমুর আক্তার বলেন, ‘হাসপাতালে এসে দেখি আমার বোনের লাশ পড়ে আছে। মারুফ আমার বোনকে মেরে হাসপাতালে ফেলে পালিয়ে গেছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
আদরের ছোট মেয়েকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন মা শাহীনূর আক্তার। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার মেয়েটা খুব আদরের ছিল। বিয়ের পরও আমি নিজে গিয়ে ওদের রান্না করে দিয়ে আসতাম। মেয়েটা তার স্বামীকে খুব ভালোবাসত। আমি বিশ্বাস করি, এটি পরিকল্পিত হত্যা।’
নিহতের বাবা আবদুল জলিল বলেন, ‘২০২৫ সালের ডিসেম্বরে পরিবারের অমতে প্রেম করে মারুফকে বিয়ে করেন কাশফি। এরপর থেকেই স্বামীর নির্যাতনের অভিযোগ ছিল। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই মেয়ের আচরণে অস্বাভাবিকতা টের পেয়েছিলাম। রাতে তার মৃত্যুর খবর পাই।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রেমের সম্পর্কের পর প্রায় সাত মাস আগে পাশ্ববর্তী এলাকার আলী হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ মারুফের সঙ্গে বিয়ে হয় কাশফির। বিয়ের পর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবন নানা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল বলে অভিযোগ পরিবারের।
খবর পেয়ে আনোয়ারা থানা-পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, ‘হাসপাতালে এক গৃহবধূর মরদেহ রেখে স্বামী পালিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। নিহতের গলায় দাগ রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’














